|
Date: 2022-08-10 13:23:14 |
নিউজ ডেস্ক :
আকর্ষণীয় বেতনের চটকদার চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধী তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো--মুজিবুর রহমান (৪২), লাবনী আক্তার (২৩) ও জান্নাতুল ফেরদৌস ময়না (২০)।
মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) মধ্যেরাতে রাজধানীর দক্ষিণখানের আশকোনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। বুধবার দুপুরে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. রেজাউল মাসুদ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায়।
ভুক্তভোগী এক নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতার করা হয়। চক্রটি রাজধানীর উত্তরায় নারী ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র নামে একটি অফিস খুলে প্রতারণা করে আসছিল।
আটককৃতদের কাছ থেকে ১৪টি মোবাইল, বিভিন্ন কোম্পানির ৬০টি সিম কার্ড, ৪০টি জাতীয় পরিচয়পত্র, ১৪৮টি বায়োডাটা ও ৩০টির বেশি ভুঁইফোড় কোম্পানি ও এনজিওর নামে করা নিয়োগপত্র ও স্ট্যাম্প সিল জব্দ করা হয়।
সিআইডি জানায়, এ চক্রের টার্গেট এসএসসি-এইচএসসি পাস বেকার যুবক-যুবতী। প্রতারক চক্রটির মূল হোতা মুজিবুর রহমান। সে ২০১৮ সালে একটি কোম্পানিতে চাকরি নেয়। সেখানে তার বসরা এভাবে প্রতারণা করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করত। ওই কোম্পানি থেকে বেরিয়ে নিজেও বেশ কয়েক বছর ধরে ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানের নামে চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা করে আসছে। গত ৩ বছরে এভাবে প্রতারণা করে বিকাশ, নগদের মাধ্যমে ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি।
সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. রেজাউল মাসুদ বলেন, ভুক্তভোগী ওই নারী ছাড়াও সারা দেশে অসংখ্য বেকার চাকরিপ্রার্থী এ চক্রের প্রতারণার ফাঁদে পড়েছে। পরবর্তীতে সাইবার মনিটরিং টিমের একটি দল মঙ্গলবার মধ্যরাতে রাজধানীর দক্ষিণখানের আশকোনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই নারীসহ তিনজনকে আটক করে। তাদের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা ও প্রতারণা আইনে মামলা করা হয়েছে। এ মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিআইডির এই কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, এ চক্রটির টার্গেট এসএসসি-এইচএসসি পাস বেকার যুবক-যুবতী। উত্তরায় নারী ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র নামে একটি অফিস খুলে বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিত চক্রটি। এ ছাড়াও বিভিন্ন ভুঁইফোড় এনজিওতে চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিত। বিজ্ঞপ্তি দেখে চাকরিপ্রত্যাশীরা আবেদন করলেই চক্রটির প্রতারণা শুরু হতো। প্রথমে এক নারীকে দিয়ে চাকরিপ্রত্যাশীকে ফোন দিয়ে বলা হতো, আপনার সিভি দেখে আপনাকে সিলেক্ট করা হয়েছে। এরপর ভুয়া কনফারমেশন লেটারও দেওয়া হতো। পরবর্তীতে অন্য একজন ফোন দিয়ে অফিস থেকে কখনও ল্যাপটপ, কখনও-বা মোটরসাইকেল দেওয়ার লোভ দেখিয়ে জামানত বাবদ চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে দফায় দফায় মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে মোবাইল বন্ধ করে দিত।
সিআইডি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি মজিবুর রহমান জানিয়েছে, এ পর্যন্ত সে প্রায় ২৫ হাজার সিভি/বায়োডাটা সংগ্রহ করেছে। এসব বায়োডাটা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বিভিন্ন চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে গত ৩ বছরে প্রায় ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।
এক প্রশ্নের জবাবে সাইবার পুলিশ সেন্টারের বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ বলেন, চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা চাইলে বুঝতে হবে চক্রটি প্রতারক। চাকরির বিজ্ঞপ্তি পেলেই যাচাই-বাছাই না করে আবেদন করা ঠিক নয়। এক্ষেত্রে সবাই সচেতন থাকলে এ জাতীয় প্রতারণা কমে আসবে।
© Deshchitro 2024