রোবট হয়ে বসে আছি বাবার শিয়রে, 

আজরাইল যে চলে এলো ঘরের দুয়ারে। 

গগনবিদারী চিৎকার করে বাড়ি তুলছে মায়, 

মাথার শিয়রে দাড়িয়ে স্তব্ধ হয়ে আছে ছোটা ভাই গুলো ঠায়, 


উঠোনে এককোনে কলাগাছের ছায়ায় গড়াগড়ি খেয়ে কাঁদছে মেজো বোন, 

ওপরে আমাগাছের তলে ফুফু আর বড় বোন কাঁদছে বসে দু'জন।  


বাড়ির এপাশ-ওপাশ মানুষ দাড়িয়ে দেখছে আমাদের, 

কাউকে চিনি আবার কেউ অচেনা দেখিনি যাদের। 


ঘরের দামি খাট রেখে মসজিদ থেকে আনা পালকিতে করে, 

চলে যাবে একটু পরে গোসলখানি করে। 


আতর লোবান সারা বাড়ি ঘ্রাণে মাতোয়ারা, 

চিৎকার আসেনা ভেতর থেকে মন পাগলপাড়া। 


সেদিন আমি নিশ্চুপ হয়ে পাথর হয়ে ছিলাম, 

বিদায়ের ক্ষণে একটুখানি চোখের জল বিসর্জন দিলাম। 


তখনো বুঝিনি বাবা যে-কি ধন মেয়েদের জীবন জুড়ে, 

এখন শুধু দিবানিশি চোখের পানি ঝরে।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024