শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সদ্যবিদায়ী মেয়র, শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. মহসিন মধু মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) বিকেলে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, গত ১৯ আগস্ট ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়র, ৬০টি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সারা দেশের সব উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, নারী ভাইস চেয়ারম্যান ও ৩২৩ টি পৌরসভার মেয়রদের অপসারণ করেছে। বর্তমানে দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় নির্দলীয় নিরপেক্ষ অন্তর্বতীকালীন সরকার স্থানীয় সরকারের এই চার স্তরে উল্লেখিত জনপ্রতিনিধিকে অপসারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৯ ভাগ জনপ্রতিনিধিই ছিল পতিত স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকারের লোকজন। আমি জনগনের ভোটে নির্বাচিত পৌর মেয়র হিসেবে অন্তর্বতীকালীন সরকারের এই সিদ্ধান্তকে আনন্দের সাথে স্বাগত জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতার আত্মত্যাগের বিনিময়ে  গত ৫ আগস্ট  স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে। কিন্তু স্বৈরাচারের বিনা ভোটে নির্বাচিত দুর্নীতিবাজরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে গেঁড়ে বসেছিল। আওয়ামী লীগ সমর্থিত এসব বিনা ভোটের জনপ্রতিনিধিরা তাদের স্থানীয় সরকারের অফিসগুলোকে যেভাবে দলীয় কার্যালয়ে পরিনত করা হয়েছিল-সারা দেশ থেকে তাদের অপসারণ করার ফলে তারা এসব দপ্তর ব্যবহার করে দেশ বিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার পথ বন্ধ করায় অন্তর্বর্তিকালীন সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। এছাড়াও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সহ বর্তমান নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের রাষ্ট্র সংস্কারের সকল পদক্ষেপকে আমি স্বাগত জানাই।

সাবেক মেয়র আরও বলেন ‘বিগত ২০১৫ সালের পুর্বে দেশে সব ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে হতো। আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৫ সালে আইন সংশোধন করে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের ব্যবস্থা করে। শুরুর দিকে বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিয়েছিল। তবে সেখানে আওয়ামী লীগ কর্তৃক ব্যাপক কারচুপি ও দখলের অভিযোগ ওঠে। ফলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের প্রায় একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছিল। এতে কার্যত জেলা ও উপজেলা পরিষদ থেকে শুরু করে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার প্রায় সব শীর্ষ পদই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দখলে চলে যায়’।

তিনি বলেন, ‘গত ২০২১ সালের পৌর নির্বাচনে আমি যে প্রতিকুল পরিস্থিতিতে মেয়র পদে নির্বাচন করি তা সকলেই অবগত আছেন। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবু হোসেনের মতো এক ডজন কেন্দ্রীয় নেতারা শ্রীমঙ্গলে অবস্থান করে আওয়ামিলীগের পক্ষে নির্বাচনী জনসভা করে আমাকে হুমকি দিয়েছিল। শ্রীমঙ্গলবাসীসহ দেশবাসী সকলের জানা আছে ওই নির্বাচনে আওয়ামীলীগের পক্ষে সিলেট মহানগর, মৌলভীবাজার জেলা আওয়মীলীগের শীর্ষ নেতারা ছাড়াও মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার আওয়ামীপন্থী সকল উপজেলা, পৌর মেয়র, এমনকি ইউপি চেয়ারম্যানরাও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষ হয়ে আমার বিরুদ্ধে প্রচারণায় নামেন’।

শুধু তাই নয় ২৫ নভেম্বর মধ্যেরাতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমার বাসভবনের ভেতরে ঢুকে হামলা চালায়। সেই হামলায় আমার একমাত্র ছেলে মুরাদ হোসেন সুমন, ভাতিজা মোশারফ হোসেন রাজসহ পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত হয়। এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এমনকি নির্বাচনী প্রচারনায় নানাবিধ বাঁধা দেয়া, পুলিশি হয়রানি, হামলা, কর্মীদের নিপীড়ন এবং আমার কর্মীদের মারধর করে হয়রানি করা হয়েছিল। নির্বাচনের দিন আওয়ামীলীগ আমাকে পরাজিত করার যত রকম চেষ্টা করা দরকার তা সবই করেছে। কিন্তু শ্রীমঙ্গলের সাধারণ মানুষ সাহস নিয়ে সব প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছিলেন’।

শ্রীমঙ্গলের সাবেক মেয়র বলেন, আমি নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপির নেতা কর্মীরা শ্রীমঙ্গল পৌরসভায় বিভিন্ন সভা সমাবেশ করে কথা বলার সুযোগ পেয়েছিল। সে সময় পৌরসভার ভিতরে মহসিন অডিটরিয়মে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ, মহিলা দলের সমাবেশ, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, জন্মবার্ষিকী, এমনকি বিএনপি অসংখ্য নেতাকর্মীদের নিয়ে ঈদ পূণ:মিলনীসহ বিভিন্ন সভা সমাবেশ করা হয়। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক সহ দেশের প্রথম সারির পত্রপত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে।

অনেকেরই জানা আছে ২০১১ সালে পৌরসভায় মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকার এর দোসররা আমাকে শপথ গ্রহণে বাধা প্রদান করে। পরে আদালতের শরণাপন্ন হই। তৎকালীন সময়ে আদালতের নির্দেশে আমাকে শপথ গ্রহণ করতে দেয়া হয়। এর আগে ২০০১ সালে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ নির্বাচনী এলাকায় আমি বিএনপির প্রার্থী হয়ে ধানের শীষ মার্কায় নির্বাচনে অংশ নেই। এখন যারা অনেকেই বিএনপির নেতাকর্মী বলে দাবি করে তৎকালীন সময়ে তারা ধানের শীষের বিপক্ষে গিয়ে ঘড়ি মার্কা এবং আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার পক্ষে কাজ করেন’।

তিনি আরো বলেন, ‘ইতেমধ্যে আপনারা দেখেছেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তোপের মুখে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন দেশ ত্যাগ করে তখন একটি চক্র লুটপাট ভাঙচুরে সাথে নিজেদের সামিল করেন। যার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেদিন ও তারপর থেকে ছাত্র জনতা, পরিবারের সদস্য এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের সাথে নিয়ে জীবন বাজি রেখে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি, সংখ্যালঘু পরিবারের উপাসনালয়, পাঁচ ৫ তারকা মানের রিসোর্ট গ্র্যান্ড সুলতান সহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং দল মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনসাধারণের জানমাল রক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়ি। সেসব কাজে শ্রীমঙ্গলের আপামর জনসাধারণের ব্যাপক সমর্থন পাই। শুধু তাই নয় বিগত দিনে শ্রীমঙ্গল পৌরবাসী এবং শ্রীমঙ্গল- কমলগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষের পাশে ছিলাম, যদি আল্লাহ সহায় থাকেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সবার পাশে থাকবো ইনশাআল্লাহ।


প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024