◾ইবতেশাম রহমান সায়নাভ  : শতবছরের পুরনো তিস্তা একটি আন্তর্জাতিক নদী। ভারতের সিকিম রাজ্যে উৎপত্তি হয়ে নীলফামারী জেলা হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে তিস্তা নদী। তিস্তা নদীর ওপর প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে আমাদের দেশের কোটি কোটি মানুষ নির্ভরশীল। দেশের অর্থনীতিতে এই নদীর গুরুত্ব অপরিসীম। 


এই নদীর ওপর বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল। বর্তমানে বাংলাদেশে নদীটি বিপর্যস্ত। শুষ্ক মওসুমে এখন পানি পাওয়া যাচ্ছে না। নদীর নাব্যতা হারাতে বসেছে। বাংলাদেশের সর্ববৃহত্ সেচপ্রকল্প ‘তিস্তা ব্যারেজ’ও হুমকির মধ্যে রয়েছে। ১৯৮২ সালে বাংলাদেশের ১০০ কিলোমিটার উজানে জলপাইগুড়ি জেলার গজলডোবায় তিস্তা নদীতে বাঁধ দিয়ে ভারত একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করে। ফলে বাংলাদেশে তিস্তার স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়। 


১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তিস্তা নদীর পানি বণ্টনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয় যে, ২৫ শতাংশ পানি নদীর জন্য সংরক্ষণ করা হবে এবং ৩৬ শতাংশ পানি বাংলাদেশ, ৩৯ শতাংশ পানি ভারত পাবে। কিন্তু কীভাবে পানি বণ্টনের ব্যবস্থা করা হবে, সে বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা ছিল না। ধীরে ধীরে ভারত শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশে তিস্তার পানিপ্রবাহ বন্ধ করে দেয়। কিন্তু বর্ষাকালে ভারত তিস্তার অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেওয়ায় অতিরিক্ত পানির ধকল সইতে হয় বাংলাদেশকে। তখন তিস্তার দু পাড়ের মানুষকে পড়তে হয় নানা বিপর্যয় ও ভোগান্তির মধ্যে। গজলডোবার বাঁধ ছাড়াও ভারত তিস্তা নদীতে আরো পাঁচ-ছয়টি বাঁধ তৈরি এবং তিস্তা নদীর সঙ্গে যেসব উপনদী সংযুক্ত হয়েছে সেগুলোতে ৪১টি বাঁধ দিয়ে মোট ৫০,০০০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুত্ উত্পাদনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের রূপরেখা তৈরি করেছে।


সম্প্রতি ভারি বৃষ্টিপাতে হঠাৎ তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় উঠেছে সমালোচনার ঝড়। আবার সামনে এসেছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা, দাবি উঠেছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের। বিগত সরকারের আমলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পেলেও ভারতের তবেদারীতে ব্যস্ত সরকার তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়। 


২০২২ সালে চীনা রাষ্ট্রদূতের তিস্তা ব্যারেজ এলাকা পরিদর্শন কে কেন্দ্র করে উঠে নতুন আশার আলো। পরিকল্পিত ড্রেজিং করে নদীর গভীরতা বৃদ্ধি, ভারতের সাথে ন্যায্য পানি চুক্তি, নদীর দুই পাড়ে স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণ সহ নানা স্বপ্ন দেখে উত্তরাঞ্চলের মানুষ। কিন্তু এবার আর আশা নয় বাস্তবায়ন চায় তারা। 



লেখক: ইবতেশাম রহমান সায়নাভ 

শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024