|
Date: 2024-10-06 11:04:05 |
সন্তান প্রতিটি মা-বাবার জন্য আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে একটি বিশেষ আমানত। এই আমানতের সঠিক পরিচর্যা ও প্রতিপালন করা প্রতিটি মাতা-পিতার কর্তব্য। সন্তানের চরিত্র ও জীবন গঠনের প্রথম দায়িত্ব মা-বাবার ওপরই ন্যস্ত। শাসন, মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখা এবং সৎ ও দ্বীনি পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করা তাদের দায়িত্ব। অপরাধ করলে সংশোধনের জন্য হালকা শাস্তি প্রয়োগও কর্তব্য, তবে তা সন্তানের মনে ভয় বা নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টির উদ্দেশ্যে নয়, বরং তাকে শুধরানোর জন্যই হতে হবে। ছোটখাটো ভুলের জন্য শাসন করলে ভবিষ্যতে বড় অন্যায় করতে সে সাহস পাবে না।
অনেক মা-বাবা মনে করেন, ছোটবেলায় শাসনের প্রয়োজন নেই; বড় হলে সন্তানরা এমনিতেই সঠিক পথে আসবে। এ ধারণা ভুল এবং দীর্ঘমেয়াদে সন্তানের ক্ষতি করতে পারে। ভারতীয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা আশরাফ আলী থানভি (রহ.) বলেছেন, পাঁচ বছর বয়সের মধ্যেই সন্তানের চরিত্র গঠন হয়ে যায়, এরপর ভালো-মন্দ যাই হোক তা মজবুত হয়ে যায় এবং পরিবর্তন করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই বাচ্চা বুঝুক বা না বুঝুক, ছোট থেকেই তাকে ভালো ও সঠিক পথের শিক্ষা দেওয়া শুরু করতে হবে।
রাসুল (সা.) এর হাদিসও এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেয়, যেখানে বলা হয়েছে, ‘সাত বছর বয়সে সন্তানদের নামাজের আদেশ দাও, দশ বছর হলে নামাজের জন্য শাসন করো এবং তাদের বিছানা পৃথক করে দাও।’ (মুসনাদে আহমদ : ৬৭৫৬)
মা-বাবাদের উচিত সন্তানের সামনে নিজের আচরণে সাবধান থাকা। যেভাবে আপনি চান সন্তানকে দেখতে, সে অনুযায়ী নিজেদের এবং আশপাশের পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি। বিশেষ করে শরিয়তবিরোধী কর্মকাণ্ড যেমন সিনেমা, নাচ-গান এবং মিথ্যা কথা থেকে তাকে দূরে রাখা উচিত। এভাবে ছোট থেকেই ভালো চরিত্র ও মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হবে।
সবশেষে, সন্তানদের মানসিক ও আবেগগত পরিচর্যা করা, ভালোবাসা ও দয়ার সঙ্গে তাদের প্রতিপালন করা একটি আদর্শ মা-বাবার দায়িত্ব। সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে, তাদের ভালোবাসা ও স্নেহ দিয়ে গড়ে তুললে তারা আত্মবিশ্বাসী, সৎ ও আদর্শ মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠতে পারবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলের সন্তানকে আদর্শ সন্তান হিসেবে কবুল করুন।
© Deshchitro 2024