বানে ডুবল ২২ হাজার হেক্টর আমন ক্ষেত, নিঃস্ব কৃষকের কান্না শুনবে কে?

টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে গত পাঁচদিন ধরে নেত্রকোনার চার উপজেলার অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। কংস নদীর পানি কমতে শুরু করলেও নিষ্কাশন সুবিধা না থাকায় ধীরগতিতে নামছে পানি। যে কারণে নষ্ট হয়ে গেছে ২২ হাজার হেক্টর আমন ক্ষেত। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা চোখে মুখে অন্ধকার দেখছেন। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, জেলায় আকস্মিক বন্যায় দুর্গাপুর, পূর্বধলা, কলমাকন্দা ও সদরের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। তবে অনেক এলাকায় কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। অন্যদিকে কংস নদীর পানি কমলেও বাড়িঘরে থাকা পানি সরতে আরও দেড়-দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। পাশাপাশি গত কয়েক দফায় বন্যার কারণে আমন আবাদ করে অবশেষে আবারও তলিয়ে নষ্ট হয়েছে কৃষি জমি। প্রান্তিক পর্যায়ের অনেক কৃষকের ধানের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও এবার একেবারেই নিঃস্ব হয়েছেন তারা।


বাট্টাপাড়া গ্রামের কৃষক হাদিস মিয়া জানান, তারা ৫ ভাই মিলে প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকার খরচ করে ২০০ কাঠা জমিতে ধানের আবাদ করেছিলেন। এবার সব তলিয়ে একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেলেন। 
একই এলাকার সোনা মিয়া বলেন, ‘তারা সব ভাইয়েরা মিলে কৃষিকাজ করেই চলেন। এটাই তাদের একমাত্র পেশা। বাড়িঘরেও ঢুকতে পারছেন না তারা। ছোট ছেলে-মেয়েরা ঘর থেকে বের হতে পারছে না।

এ দিকে চার উপজেলার মোট ২৭টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে জানিয়ে নেত্রকোনা সদরের নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুম জানান, সদরের চারটি ইউনিয়ন কেগাতি, মৌগাতি, মেদনি ও ঠাকুরাকোনার প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি। তারা নিয়মিত বন্যা কবলিতদের খোঁজ রাখছেন এবং শুকনো খাবার বিতরণ করছেন। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ বছর রোপা আমনের আবাদ হয়েছিলো এক লাখ ৩৫ হাজার ৯০০ হেক্টর। তারমধ্যে বন্যায় গেল ৫ দিনে ২২ হাজার ৬৪১ হেক্টর ধান ও এক হাজার ৬৪৫ হেক্টর সবজি নষ্ট হয়েছে। ৫ লক্ষাধিক কৃষকের মধ্যে ৬৯ হাজার ৪৫০ কৃষক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এতে প্রায় ২৯৩ কোটি টাকা মূল্যের ধান নষ্ট হয়েছে।


এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ নরুজ্জামান জানান, এখন আমন আবাদের সময় শেষ। যে কারণে আবার আবাদ করার সুযোগ নেই। ইরি বোরো মৌসুম চলে আসায় হয়তো পরবর্তী প্রস্তুতি নিতে হবে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে তাদের ক্ষতি পোষাতে প্রণোদনা দেয়া হতে পারে বলে জানান তিনি।


প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024