রামুতে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) অভিযানে শাহীন ডাকাত বাহিনীর দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মিজানুর রহমান (৩৬) এবং মো. হাশেম (৩৭)। র‍্যাবের দাবি, তাঁরা স্থানীয় চোরাচালান ও ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য।


র‍্যাব-১৫ এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (আইন ও গণমাধ্যম) মো. কামরুজ্জামান জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে এর আগে হত্যাচেষ্টা এবং অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।


এই অভিযানের পেছনে মূল কারণ হিসেবে র‍্যাব জানায়, ৯ অক্টোবর কচ্ছপিয়াতে মনির উদ্দিন নামে এক যুবককে সশস্ত্র হামলার শিকার করা হয়। শাহীন বাহিনীর সদস্যরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে মনিরের ওপর হামলা চালায়, যার ফলে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম হয়। এ ঘটনার পরপরই র‍্যাব অভিযান চালিয়ে মিজানুর ও হাশেমকে আটক করে।


শাহীন বাহিনীর প্রধান শাহীনুর রহমান ওরফে শাহীন দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার থেকে চোরাচালানকৃত মাদক এবং পশুর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শাহীন এবং তার দল সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় কার্যক্রম চালিয়ে আসছে এবং স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী কয়েকজনের সহযোগিতায় চোরাচালান কার্যক্রম পরিচালনা করছে।


এর আগে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে বান্দরবান থেকে র‍্যাবের হাতে শাহীনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে, দুই মাসের মাথায় জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি আবারও অপরাধ কার্যক্রমে জড়িত হয়ে পড়েন। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যাকাণ্ড, ডাকাতি, অস্ত্র এবং মাদক চোরাচালানের মামলা রয়েছে, যা তার অপরাধ সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি নির্দেশ করে।


র‍্যাবের অভিযানে শাহীনের সহযোগীদের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এলাকাবাসীর ধারণা, এ ধরনের অভিযানে স্থানীয় চোরাচালান ও অপরাধচক্রের কার্যক্রমে লাগাম টানা সম্ভব হবে।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024