|
Date: 2024-10-19 04:59:27 |
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে প্রায় আড়াই মাস আগে ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন টানা সাড়ে ১৫ বছরের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশ থেকে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে একটি সামরিক বিমানে চেপে দিল্লিতে যান তিনি। এরপর থেকে এক মুহূর্তের জন্যও প্রকাশ্যে দেখা যায়নি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে। ভারতে আসার পর থেকে তিনি যেন কার্যত হাওয়ায় মিলিয়ে গেছেন!
ছোট বোনের সঙ্গে ভারতে আসার পর শেখ হাসিনা কোথায় কীভাবে আছেন তা নিয়ে ভারত সরকারের মুখপাত্র, মন্ত্রী বা নীতি-নির্ধারকরা আজ পর্যন্ত একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি। সাংবাদিক সম্মেলন বা কোনো সাক্ষাৎকারেও শেখ হাসিনার অবস্থান সম্পর্কে কেউ কিছু বলেননি। তবে ভারত সরকার গত বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে ও পরোক্ষে এটুকু শুধু জানিয়েছে যে তিনি এখনও ভারতেই অবস্থান করছেন। মাঝে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল যে শেখ হাসিনা ভারত ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ আরব আমিরাতে চলে গেছেন। সেখানকার আজমান শহরে তিনি অবস্থান করছেন। গত বৃহস্পতিবার ভারত সরকারের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার দিল্লিতে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
শেখ হাসিনার এ দেশে থাকা নিয়ে ভারত সরকার সম্পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় রাখতে সফল হয়েছে এটা যেমন ঠিক, তাকে কতদিন ভারতে রাখতে হবে সে ব্যাপারে দিল্লি কিন্তু এখনও পুরোপুরি অন্ধকারে।
‘ইট’স গোয়িং টু বি আ লং হল’, ব্যক্তিগত অভিমত জানাচ্ছেন দিল্লির সাউথ ব্লকের একজন শীর্ষস্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা– যার ধারণা, বেশ লম্বা সময়ের জন্যই শেখ হাসিনাকে ভারতে থাকতে দিতে হবে এই বাস্তবতার জন্যই সরকার এখন ক্রমশ প্রস্তুত হচ্ছে।
তাহলে কি অতীতে যেভাবে তিব্বতি ধর্মগুরু দালাই লামা বা আফগান প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাজিবুল্লাহর স্ত্রী-সন্তানদের ভারত ‘পলিটিক্যাল অ্যাসাইলাম’ বা রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছিল, শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদক্ষেপের কথা ভাবা হচ্ছে? এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে দিল্লিতে বিবিসি বাংলা সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছে, তার ভিত্তিতে যে উত্তরটা পাওয়া যাচ্ছে তা মোটামুটি এরকম:
প্রথমত, ভারতের চোখে এই মুহূর্তে শেখ হাসিনা হলেন একজন ‘গেস্ট, বাট আন্ডার কমপালশন!’ অর্থাৎ তিনি রাষ্ট্রের একজন সম্মানিত অতিথি– যাকে বিশেষ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে ভারতে চলে আসতে হয়েছে। নিজ দেশে তার নিরাপত্তা বা সুরক্ষা বিপন্ন হয়ে উঠেছিল বলেই তিনি ভারতে এসেছেন, এটাও ভারত খুব ভালো করেই জানে। এখন এই ‘অতিথি’র স্ট্যাটাসেই তাকে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস এ দেশে রেখে দেওয়া যেতে পারে– ভারতের তাতে কোনও অসুবিধা নেই। দেশের পুরনো বন্ধু ও অতিথি হিসেবে তিনি সব প্রাপ্য সম্মানই পাবেন।
© Deshchitro 2024