নড়াইল জেলায় এবার ২২ হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু আবাদ হয়েছে ২৩ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে। আবাদকৃত জমিতে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৪১০ বেল পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

কিন্তু খালে-বিলে বিভিন্ন জলাশয়ে পানি নেই। পাট পচানো নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বৃষ্টির আশায় আকাশ পানে চেয়ে আছে কৃষকরা। পানির জন্য অনেক স্থানে পাটের জমিতে বসে নামাজ আদায় করছেন কৃষকরা। জেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে এমন দশ্য।

সরেজমিন কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,পানির অভাবে পাট পচন দিতে না পারায় জমিতেই পাট রোদে শুকিয়ে লালচে হয়ে যাচ্ছে। অনেকে উপায় না পেয়ে অপরিস্কার অল্প পানিতেই পাট পচন দিতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে পাটের রং কালো হয়ে যাচ্ছে। এই কালো পাট বাজারে নিয়ে কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন না। 




সদর উপজেলার শেখহাটি ইউনিয়নের হাতিয়ারা গ্রামের কৃষক বিমল বিশ্বাস বলেন,মার্চ মাসের শেষ দিকে পাটের বীজ জমিতে বোনা (রোপন) করা হয়। জুন মাসের শেষ দিকে পাট কাটা হয়। আগষ্ট মাস শেষ হতে চলেছে তেমন কোন ভারী বৃষ্টিপাত হয়নি। খাল-বিলসহ বিভিন্ন জলাশয়ে পানিও নেই। পানির অভাবে পাট জাগ (পচন) দিতে পারছে না। প্রচন্ড খরার (রোদ) তাপে জমিতেই পাট শুকিয়ে যাচ্ছে।

লোহাগড়া উপজেলার নলদী ইউনিয়নের কালাচাদপুর গ্রামের কৃষক রোস্তম আলী বলেন, পানির জন্য চাষীরা জমিতে নামাজ আদায় করছেন। তিনি বলেন, পাট কাটতে না পারায় আমন চাষ পিছিয়ে যাচ্ছে। আমন চাষ পিছিয়ে গেলে রবিশস্য চাষও পিছিয়ে যাবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ দীপক কুমার রায় বলেন,এ বছর পাট নিয়ে কৃষকরা মহা বিপদে আছেন। পানির অভাবে পাট পচন দিতে পারছে না। তিনি বলেন,পাট কেটেই জমিতে আমনের চাষ করা হয়। সময়মত পাট পচন দিতে না পারলে আমন চাষ ব্যাহত হবে। তিনি বলেন,যে যেখানে পারেন অল্প পানিতেই পাট পচন দিয়ে তার ওপর পলিথিন কিংবা মাটি ও বালির বস্তা চাপা দিয়ে পাট পানির তলে ডুবিয়ে দিতে হবে। এছাড়া কৃষকদের কোন উপায় নেই।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024