|
Date: 2024-11-18 12:43:08 |
টাঙ্গাইলের মধুপুরে প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী ও ইউপি সদস্যদের সাথে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার তীব্র দ্ব্ন্ধ্ দেখা দিয়েছে। এই দ্বন্দ্ব ঘিরে সোমবার দুপুরে সমাজসেবা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষগ্রহণ, হ্যাকারদের সাথে সম্পৃক্ততা ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ এনে তার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে উপজেলা মেম্বারস ফোরাম।
অবশ্য উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোস্তফা হোসাইন তাঁর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
রবিবার ১৮ নভেম্বর সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মেম্বারস ফোরামের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সোহেল, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সুলতান, ভুক্তভোগি মাজেদা বেগম, আয়েশা বেগম প্রমূখ। ওই মানববন্ধনে উপজেলার বেরিবাইদ, গোলাবাড়ি, আলোকদিয়া, অরনখোলা, শোলাকুড়ি, ফুলবাগচালা ইউনিয়নের সদস্য ও ভাতার টাকা না পাওয়ায় ভুক্তভোগিরা অংশ নেন।
মানববন্ধন চলাকালে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোস্তফা হোসাইন এগিয়ে এলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুবায়ের হোসেন এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
জানা যায়, টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাভোগির সংখ্যা ৩৫ হাজার ৭৮২ জন। এদের মধ্যে বয়স্ক ভাতাভোগি ১৬ হাজার ১৩৫ জন, বিধবা ভাতাভোগির সংখ্যা ৬ হাজার ২৮৫ জন এবং প্রতিবন্ধী ভাতাভোগির সংখ্যা ১৩ হাজার ৩৬২ জন। এদের প্রত্যেকে যথাক্রমে মাসিক ৬শ, ৫শ ৫০ ও ৮শ ৫০ টাকা করে আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকেন। বর্তমানে তাদের কেউ কেউ ভাতার টাকা না পেয়ে সমাজসেবা অফিস ও জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
মেম্বারস ফোরামের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সোহেল জানান, ভাতাভোগিদের মধ্যে এক হাজারের অধিক ভাতাভোগি ভুয়া বা মৃত। যাদের টাকা সমাজসেবা কর্মকর্তা হ্যাকারদের মাধ্যমে আত্মসাৎ করে থাকেন। অপরদিকে মৃতদের নামের স্থলাভিষিক্ত করার জন্য ৫শ থেকে ১ হাজার টাকা গ্রহণ করে সমাজসেবা অফিসের লোকজন। এছাড়া সমাজসেবা অফিসের কর্মরত নন এমন ব্যক্তিদের সবসময় অফিসে বসিয়ে রাখেন। যাদেরকে তিনি ভাতাভোগিদের তথ্য দিয়ে মোবাইল হ্যাক করতে সহযোগিতা করেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া মধুপুর উপজেলার বেরিবাইদ ইউনিয়নের চুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মাজেদা বেগম বলেন, ‘আগে আমি নিয়মিত বয়স্কভাতা পেলেও এখন আর পাই না। শোলাকুড়ী ইউনিয়নের আয়শা বেগম বলেন, ‘কেউ যদি আমাদের টাকা বের করে নেয় তাহলে তারও তো ডকুমেন্ট থাকে। সেটিও আমাদের দেওয়া হচ্ছে না। কোনও বিষয়েই সহযোগিতা করছেনা সমাজসেবা অফিস।’
মেম্বার ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সুলতান বলেন, ভুক্তভোগিদের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে গেলে সমাজসেবা কর্মকর্তা কোন পাত্তা দেননা। আমাদের কাছে সরাসরি টাকা চেয়ে থাকেন অফিসের কর্মচারিরা। বিষয়টি সমাজসেবা কর্মকর্তাকে জানালে তিনি জনপ্রতিনিধিদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে থাকেন।
এ ব্যাপারে মধুপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোস্তফা হোসাইন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন। প্রতিবন্ধী জরিপ কার্যক্রম চলমান। অনেকে বাদ পরায় ক্ষুব্ধ হচ্ছেন কেউ কেউ। মোবাইল হ্যাক করে টাকা নেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, যাদের টাকা নগদ একাউন্ট থেকে খোয়া গেছে তাদেরকে থানায় জিডি করতে বলেছি। এছাড়াও আমাদের কাছে লিখিতভাবে দিতে বলেছি। আমরা ভুক্তভোগীদের সুবিধায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
© Deshchitro 2024