তোমরা কি আমায় খুঁজবে না প্রভাতের ওই উদ্ভাসিত রবিতে? যেথায় দূর্বায় জমে থাকা শিশিরে মন হয় অম্লান;

খুঁজবে না কি দূর পল্লির ওই স্মৃতিবিজড়িত পরিচিত মৃত্তিকায়,

রোজ যেথায় সোনালি শস্যে দূরীভূত হয় চাষার অভুক্তের গ্লান!


তোমরা কি আমায় খুঁজবে না ওই অনিকট দিগন্তে হারিয়ে যাওয়া অভয়ারণ্যে? ফুলে-ফলে যার স্বরুপে মেলে ইন্দ্রালয়;

খুঁজবে না কি নিকুঞ্জের বুনো ফুল ও ষটপদীর আলিঙ্গনের মুগ্ধতায়, প্রগাঢ় অনুরাগ ও মমত্বের লিপ্সা যেথায় জড়িয়ে রাখে অবলীলায়! 


তোমরা কি আমায় খুঁজবে না হেমন্তের পথ হারা পথিকের মলিন চাহনিতে? যার আশায় পথ চেয়ে আছে এক অনাহারী স্বজনে;

খুঁজবে না কি ডোবার পাড়ের বাঁশের ডগার মাছরাঙার অনিমেষ নজরে, যেথায় বুনোহাঁস আর বকের শুভ্রতায় পাবে অনিন্দ্য সুশ্রী ব্যজনে!


তোমরা কি আমায় খুঁজবে না আমাবস্যার ওই ঘুটঘুটে শর্বরীতে? সুদর্শন ও জোনাকেরা যেথায় হন্যে হয়ে বেড়ায় উড়ে;

খুঁজবে না কি শরতের ঝকঝকে আকাশে মেঘেদের ভীড়ে, যখন সাঁঝের বেলায় চন্দ্রশোভায় ঝলমলায় ওই বিরানের কুঁড়ে! 


তোমরা কি আমায় খুঁজবে না ওই সদ্য জন্মা শিশুর ঈষৎ হাসিতে? যার নেই কোনো সহসা অভিযোগ ও অপ্রাপ্তির বেদন; 

খুঁজবে না কি ওই আঁধারে পড়ে থাকা গুল্মে আচ্ছন্ন সমাধীতে, যেদিন আমিহীন পৃথিবীর রবে না কোনো রোদন!


লেখকঃ আসিফ আহমেদ 

(শিক্ষার্থী) 

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় 

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024