» মুহাম্মদ সুলতান মাহমুদ  , ঢাকা কলেজ : অমর একুশে গ্রন্থমেলা আমাদের কাছে ব্যাপকভাবে একুশে বইমেলা নামেই পরিচিত। ঐতিহ্যবাহী মেলা গুলোর মধ্যে বই মেলা অন্যতম। জানা যায় ১৯৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী শ্রী চিত্তরঞ্জন সাহা বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসের সামনের বটতলায় এক টুকরো চটের ওপর কলকাতা থেকে আনা ৩২ টি বই সাজিয়ে বইমেলা শুরু করেন। ২০১৩ সাল পযন্ত মেলা বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে হতো তারপর ২০১৪ সাল থেকে বাংলা একাডেমির মুখোমুখি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্প্রসারণ করা হয়েছে।


একজন শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিক পরিক্ষা শেষ করার পর যখন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উঠে তখন নিজেকে আগের চেয়ে বেশি মেলে ধরার সুযোগ হয়। অর্থ উপার্জনের অনেক পথ চালু হয়। নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করার সুযোগ হয়। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা অর্জনের সাথে অর্থ উপার্জনের জন্য অমর একুশে বই মেলা সুন্দর একটি মাধ্যম হতে পারে। বই মেলায় তারা খণ্ডকালীন জব করতে পারবে। এতে তাদের মধ্যে টিম ওর্য়াক, কমিউনিকেশন স্কিল, কাস্টমার সার্ভিস, টাইম ম্যানেজমেন্ট এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারপারর্সনাল স্কিল বৃদ্ধি পাবে। সাধারণত প্রকাশনী মালিকগণ ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারীর প্রথম সপ্তাহ পযন্ত সিভি সংগ্রহ করে থাকেন। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বাংলাবাজার যেয়ে অথবা প্রকাশনীর ইমেইলে সিভি পাঠাতে হবে। তারপর তারা প্রাথমিক ভাবে সিভি বাছাই করে চুড়ান্ত প্রার্থীদের ভাইবার মাধ্যমে নিয়োগ দিয়ে থাকেন। বই মেলায় কাজ করার মধ্যে অন্যরকম এক আনন্দ খুঁজে পাওয়া যায়। সাধারণত মেলা একমাস ব্যাপী চলে। পুরো ফেব্রুয়ারী মাস জুড়ে। শুক্র ও শনিবার সকাল ১১ টা থেকে মেলা শুরু হয় চলে রাত ৯ টা পযন্ত। এবং সপ্তাহের বাকি ৫ দিন মেলা চলে বিকেল ৩ টা থেকে রাত ৯ টা পযন্ত। এখানে শিক্ষার্থীদের সুবিধা হলো সকালে ক্লাস অথবা পরিক্ষা থাকলে সেটা শেষ করে দুপুরে মেলায় জয়েন করতে পারে। আমি মনে করি, সবকিছু মিলিয়ে বই মেলায় কাজ করার মাধ্যমে তিনটা জিনিস অবশ্যই অর্জন করা সম্ভব।


» শিক্ষণ :


বই মেলায় আমরা যেই স্টল বা প্যাভিলিয়নে কাজ করি না কেনো আমাদের পুরোটা সময় বই নিয়েই কাজ করতে হয়। এখানে বিভিন্ন লেখক, লেখিকার হাজার হাজার বই আছে। শত টপিকের উপর বিভিন্ন রকম বই। রয়েছে দেশী বিদেশি অনুবাদ বই। একজন কর্মী বই গুলা সাজাবেন, গুছাবেন, পাঠকদের কাছে বিক্রি করবেন। প্যাভিলিয়নে লেখকরা আসবেন আড্ডা দিবেন,গল্প করবেন তাদের সাথে দেখা হবে। বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের আগমন হবে মেলায়।ছোট থেকে বড় সবাই। তারা আসবেন বই দেখবেন,বই কিনবেন তাদের সাথে কথা হবে পরিচয় হবে। এই পুরো প্রক্রিয়াতে একজন শিক্ষার্থী অনেক কিছু শিখতে পারবে, জানতে পারবে।


» সুখানুভূতি :


বই মেলায় স্টল গুলোতে সাধারণত ২ থেকে ৬ জন পযন্ত এবং প্যাভিলিয়ন গুলোতে প্রকাশনী বেধে ১৫ থেকে ২০ জন বা তার চেয়েও বেশি কর্মী নিয়োগ দিয়ে থাকে। স্টল বা প্যাভিলিয়নে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজের শিক্ষার্থীরা কাজ করেন। মেলার শুরুতে সবাই মিলে প্যাভিলিয়নটিকে পরিষ্কার করা,বই গুছানো এবং সাজাতে হয়। তারপর একসাথে বই বিক্রি করা। ব্রেক টাইমে একসাথে খাবার খাওয়া। সুযোগ পেলে একটু গল্প করা। আবার রাতে মেলা শেষ হলে বই গুছিয়ে প্যাভিলিয়ন বন্ধ করে বাসায় চলে আসা। এই কাজ গুলো পুরো মেলা জুড়েই করতে হয় সবাইকে একদম শেষ দিন পযন্ত। এখানে কেউ সিনিয়র কেউ জুনিয়র, ভাইয়া- আপুরা থাকে। সবার সাথে এক হয়ে কাজ করার সুবাদে চেনা জানা হয়। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হয়। মিলেমিশে কাজ করার সময় সুন্দর মুহুর্ত তৈরি হয়। এভাবেই নিজেদের মধ্যে সুখানুভূতি পাওয়া যায়।


» অর্থ উপার্জন:


বই মেলায় এক মাস কাজ করার ফলে প্রত্যেক কর্মীকে একটি নিদিষ্ট পরিমাণ সম্মানী দেওয়া হয়ে থাকে। এখানে প্রকাশনী বেধে ৮ হাজার থেকে শুরু করে ১৫ হাজার বা তারচেয়েও বেশি সম্মানী প্রধান করা হয়। এবং কিছু প্রকাশনীতে সেলের উপর কমিশন প্রদান করা হয়ে থাকে। নিয়োগ দেওয়ার সময় প্রকাশনী গুলো টাকার ব্যাপারে উল্লেখ করে দেয়। তাছাড়া শুক্র ও শনিবার স্টল বা প্যাভিলিয়ন থেকে প্রত্যেক কর্মীদের দুপুরের খাবার দেওয়া হয় এবং প্রতিদিন বিকেলে নাস্তা দেওয়া হয়ে থাকে। মেলার পুরোটা সময় কাজ করতে হয় প্রকাশনীর নিজস্ব ইনর্চাজের তও্বাবধানের মাধ্যমে । 


সবশেষে বলা যায়,একমাস ব্যাপী খণ্ডকালীন কাজের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জন সাথে টাকা উপার্জনের জন্য অমর একুশে বই মেলা সুন্দর একটি মাধ্যম শিক্ষার্থীদের জন্য।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024