মহা বিপন্ন প্রাণি চশমাপরা হনুমান রক্ষায় বন বিভাগ নানা উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে আসা এ বন্যপ্রাণি মানুষের হাতে আক্রমণের শিকার যেন না হয় সেজন্য জন সচেতনতা সৃষ্টি, জনবসতি এলাকায় তাদের বিচরণ পর্যবেক্ষণে রাখা ইত্যাদি। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ‘নিরাপদ আবাস ও খাদ্যের অভাবে চশমাপরা হনুমান’ শিরোনামে একাধিক সচিত্র সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর বন বিভাগ এ বন্যপ্রাণি রক্ষায় এসব উদ্যোগ নেয়। নিরাপদ আবাসস্থল ও খাদ্যের সন্ধানে এ মহাবিপন্ন প্রাণি চশমাপরা হনুমানের ২০-২৫ সদস্যের একটি দল খাগড়াছড়ির রামগড় পৌরসভার বিভিন্ন জনবসতিতে চলে আসে।  বাগবাগিচায় হানা দিয়ে ফলফলাদি  ও শাক-সবজি খেয়ে ফেলার কারণে  এ বন্যপ্রাণির সাথে মানুষের বৈরিতা সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসিদের হাতে প্রতিনিয়ত  আক্রমণের শিকার হচ্ছে চশমাপরা হনুমানের দল। এ অবস্থায় মহাবিপন্ন চশমাপরা হনুমান রক্ষায় জন সচেতনতামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার(১১ ডিসেম্বর) রামগড়ে এক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। রামগড় বন রেঞ্জের আয়োজনে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতা আফরিন। প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো: ফরিদ মিয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী মো: নাজমুল হুদা, রামগড় প্রেসক্লাবে সভাপতি ও ইত্তেফাক প্রতিনিধি মো: নিজাম উদ্দিন লাভলু। রামগড় রেঞ্জ কর্মকর্তা মো: জাহিদ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সদর রেঞ্জ কর্মবর্তা মো: মোশাররফ হোসেন, রামগড় রিপোর্টটার্স ইউনিটির সভাপতি মো: বাহার উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক রতন ত্রিপুরা প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো: ফরিদ মিয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, মহাবিপন্ন চশমাপরা হনুমানসহ পার্বত্য এলাকায় মূল্যবান বন্যপ্রাণি সংরক্ষণের জন্য বনবিভাগ সবোর্চ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বন ও বন্যপ্রাণি রক্ষায় সকলের ভূমিকা অত্যাবশ্যক। তিনি মহাবিপন্ন প্রাণি চশমাপরা হনুমান রক্ষায় সচেতনতামূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের  ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024