জামালপুর জেলার আবারও শ্রেষ্ঠ সার্কেল নির্বাচিত হয়েছেন পাঁচ যুবককে হেনেস্তায় অভিযুক্ত ইসলামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) অভিজিত দাস। 

গতকাল সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে জামালপুর পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে গত নভেম্বর মাসের আইন শৃঙ্খলা ও অপরাধ পর্যালোচনা বিষয়ক অনুষ্ঠিত সভায় কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্যের জন্য এএসপি অভিজিত দাসকে জেলার শ্রেষ্ঠ সার্কেল হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এনিয়ে তিনি টানা দুইবার জেলার শ্রেষ্ঠ সার্কেল নির্বাচিত হলেন।


এসপির কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন এসপি সৈয়দ রফিকুল ইসলাম। সভার শুরুতেই পূর্ববর্তী অপরাধ পর্যালোচনা সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়। পরে সভায় জেলার বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক উদ্ধার, জেলার মুলতবি মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিষ্পত্তি, স্পর্শকাতর মামলাসমূহের অগ্রগতিসহ জেলার গোয়েন্দা কার্যক্রম বিষয়ে করা হয় বিস্তর আলোচনা। 


সভায় এএসপি অভিজিত দাসকে জেলার শ্রেষ্ঠ সার্কেল ঘোষণা ছাড়াও ইসলামপুর থানার ওসি মো. সাইফুল্লাহ সাইফকে জেলা শ্রেষ্ঠ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), এমদাদুল হক এবং দ্বীপক চন্দ্র পালকে 

শ্রেষ্ঠ উপপরিদর্শক (এসআই) ঘোষণা করা হয়।


এছাড়া জাহাঙ্গীর আলম এবং প্রদ্বীপ চন্দ্র রায় জেলার শ্রেষ্ঠ সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নির্বাচিত হন।


 পরে গত নভেম্বর মাসে কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্যের জন্য স্বস্ব পদে জেলার শ্রেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে তাঁদের নাম ঘোষণা করেন এসপি সৈয়দ রফিকুল ইসলাম।


এর আগে গত ১৪ মে এসপি কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এপ্রিল মাসের আইন শৃঙ্খলা ও অপরাধ পর্যালোচনা বিষয়ক অনুষ্ঠিত সভায় কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্যের জন্য এএসপি অভিজিত দাসকে জেলার শ্রেষ্ঠ সার্কেল হিসেবে ঘোষণা করেন তৎকালীন 

এসপি মো. কামরুজ্জামান। 


উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ সাহরি খেতে লোকজনকে ঘুম থেকে জাগাতে মাইকিং করার দায়ে এএসপি অভিজিত দাসের হেনস্তা হওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন ভুক্তভোগী পাঁচ যুবক। 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সাহরি খেতে লোকজনকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলতে ওইদিন রাত ৩টার দিকে পৌর এলাকায় মাইকিং করছিলেন তাঁরা। এ সময় এএসপি অভিজিত দাস মাইকিং করার দায়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করাসহ তাঁদেরকে মারধর করে থানা হাজতে আটকে রাখে। থানা হাজতে তাঁদের সাহরি খেতে না দেওয়ায় পরদিন তাঁরা কেউ রোজা রাখতে পারেননি। ভোর রাতে পৌর কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহন মিয়ার হস্তক্ষেপে তাঁরা ছাড়া পান। পরে তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ধর্মমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান দুলাল ডাকবাংলোয় এএসপি অভিজিত দাসকে ডেকে নিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে বিষয়টি সমঝোতা করে দেন। তবে পাঁচ যুবককে হেনেস্তার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছিলেন এএসপি অভিজিত দাস। তাঁর দাবি, আইনানুসারে ওই পাঁচ যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা নেওয়া হয়েছিল।'


প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024