|
Date: 2024-12-30 17:01:58 |
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় গণপিটুনিতে কৃষক সেজাব আলী নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আজ সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিহতের ছেলে সুজন মিয়া বাদী হয়ে ২৬ জনের নামোল্লেখে ইসলামপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
নিহত সেজাব আলী তিনি উপজেলার কুলকান্দী ইউনিয়নের জিগাতলা গ্রামে বসবাস করে আসছিলেন। তাঁর পৈতৃক বাড়ি সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলায়।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, জমি সংক্রান্ত এবং শত্রুতার জের ধরে আসামিরা কৃষক সেজাব আলীকে বসতঘর থেকে টেনেহেচড়ে বের করে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেলে কুলকান্দী যমুনা নদীর দুর্গম জিগাতলা গ্রামে এক বিশেষ অভিযান চালায় ইসলামপুর থানা-পুলিশ।
গণপিটুনি দিয়ে তিন ব্যক্তিকে পুলিশে সোপর্দ করে উত্তেজিত জনতা।
পুলিশে সোপর্দ করা ব্যক্তিরা হলো, জিগাতলা গ্রামের সাত্তার মিয়ার ছেলে ইসমাইল, দেলবার আলীর ছেলে সুরমান আলী এবং কৃষক সেজাব আলী। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি ওয়ান শূটার গান, আট রাউন্ড গুলি এবং একটি ছোরা উদ্ধার করেন বলে দাবি করেন পুলিশ।
এসব ঘটনায় ইসলামপুর থানার সেকেন্ড অফিসার ও উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুজ্জামান বাদী হয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি অভিযোগে এবং অস্ত্র আইনে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করেছেন।
আটক ওই তিনজনকে প্রথমে ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে সেতাব আলী এবং ইসমাইলের শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদেরকে জামালপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। পরে গভীর রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সেজাব আলী মারা যান। এছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য ইসমাইলকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছে কর্তব্যরত চিকিৎসক।
নিহত সেজাব আলীর ছেলে সুজন মিয়া বলেন, 'বাবাকে হত্যার ঘটনায় ইসলামপুর থানায় মামলা দায়ের করেছি। শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষরা বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। বাবা নিরপরাধ মানুষ ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের মামলা ছিলো।'
ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল্লাহ সাইফ বলেন, 'নিহত সেজাব আলীর ছেলে সুজন মিয়া বাদী হয়ে ২৬ জনের নামোল্লেখে হত্যা মামলা করেছেন। আরও অজ্ঞাত ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আমরা মামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি।'
© Deshchitro 2024