|
Date: 2025-01-05 01:30:56 |
শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভার বৈশাখীপাড়া এলাকায় ৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নতুন ভবন হলেও এখনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। চলতি বছরের জুনে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর হাসপাতালটি উদ্বোধনের তারিখ ছিল ১০ সেপ্টেম্বর। কিন্তু পুরাতন হাসপাতালের কার্যক্রম সরানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্থানীয় একটি পক্ষ আদালতে মামলা করলে নতুন ভবনের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। ফলে বাধ্য হয়ে পুরাতন হাসপাতালের জরাজীর্ণ ভবনগুলোতেই সীমিত স্বাস্থ্যসেবা দিতে হচ্ছে।
পুরাতন হাসপাতালের জরাজীর্ণ ভবনে চিকিৎসা কার্যক্রম চালাতে গিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের প্রধান সহকারী আশরাফুন নিসা আশা বলেন, “চিকিৎসকদের থাকার জায়গাগুলোকে অফিস কক্ষ হিসেবে ব্যবহার করছি, যা খুবই ছোট। রুমগুলোর অবস্থা এতটাই খারাপ যে, কাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। নতুন হাসপাতালের আধুনিক ভবনে গেলে এই সমস্যাগুলো থাকতো না, আর রোগীরাও উন্নত সেবা পেত।”
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আলফাতুন্নেসা বলেন, “আমরা যেই কক্ষে আছি, সেটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দেয়াল ও ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে। নতুন হাসপাতালটি চালু হলে আমরা ভালো পরিবেশে সেবা পেতাম। কিছু মানুষের কারণে মামলার জটিলতা তৈরি হওয়ায় আমাদের উন্নত সেবা থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে।
২০১৭-১৮ সালের পদ্মা নদীর ভাঙনে মুলফৎগঞ্জ হাসপাতালের মূল ভবন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরপর নড়িয়া পৌরসভার বৈশাখীপাড়া এলাকায় আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। প্রেস ক্লাব সভাপতি আব্দুল খালেক পেদা ইমন বলেন, “হাসপাতালটি আধুনিক যন্ত্রপাতি ও সুযোগ-সুবিধাসহ নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। অথচ মামলার কারণে নতুন ভবনে কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। এতে রোগীরা উন্নত চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামরুল জমাদ্দার জানান, পুরাতন ভবনে সীমিত স্বাস্থ্যসেবা দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “নতুন হাসপাতালে গেলে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও পর্যাপ্ত জায়গার কারণে সেবার মান অনেক উন্নত হবে। কিন্তু স্থানীয়দের করা মামলার কারণে আমরা নতুন ভবনে যেতে পারছি না।”
শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন আবুল হাদী মো. শাহপরান জানান, পুরাতন ও জরাজীর্ণ ভবনে স্বাস্থ্যসেবা দিতে গিয়ে নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তবে মামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি।
নড়িয়া উপজেলার প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের জন্য নির্মিত আধুনিক এই হাসপাতালটি দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, মামলার জটিলতা দ্রুত সমাধান করে হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করা উচিত, যাতে এলাকাবাসী উন্নত চিকিৎসা সেবা পেতে পারে।
স্বপ্নের এই হাসপাতালটি কবে চালু হবে, তা নিয়ে নড়িয়ার মানুষের মধ্যে আশঙ্কা ও প্রশ্ন রয়ে গেছে।
© Deshchitro 2024