|
Date: 2022-12-03 15:51:46 |
সকাল ৫টা থেকে রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন এলাকায় একত্রিত হতে থাকে রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলার বিএনপির নেতা কর্মিরা। সকাল ৮টা থেকে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বিএনপির নেতা কর্মিরা শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত করে মিছিল নিয়ে মাদ্রাসা মাঠের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। রাজশাহী নগরী পরিনত হয় মিছিলের নগরীতে।
রাজশাহীর রাজিব চত্বরে কথা হয় গোদাগাড়ী উপজেলা থেকে আসা আশরাফুল আলমের সাথে। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য এ গন সমাবেশে এসেছি। এ জালিম সরকারের পতন হবে ইনশাল্লাহ।
মোজাম্মেল হক বলেন, ফজরের নামাজ পড়ে গনসমাবেশের উদ্দেশ্য অটোতে রওনা দিয়।আসার পথে দুইবার পুলিশের বাঁধায় পড়ি। পুলিশ বাঁধা দিলে হাটতে শুরু করি।পায়ে হেটে এসেছি।
গোদাগাড়ী উপজেলার পদ্মানদীর ওই পার চর এলাকার ইসমাইল হোসেন বলেন, গনসমাবেশের আগের দিন শুক্রবার পদ্মা নদীতে নৌকা চলাচলে বাধা দেওয়া হয়। সেই বাধা ভেঙ্গে আমরা শুক্রবার ১ দিন আগে নদীপার হয়ে গনসমাবেশ স্থলে চলে আসি।
চারঘাট উপজেলা থেকে নদী পথে আসা খাইরুল ইসলাম বলেন, বাস ও ছোট জানবহন ধর্মঘটের কারনে নৌপথে নৌকা যোগে আসার সময় ইউসুপপুর এলাকায় নৌপুলিশ আমাদের নৌকা আটকিয়ে রাখে প্রায় ২ ঘন্টা। তাদের বাধা ভেঙ্গে আমরা গনসমাবেশের স্থল মাদ্রাসা মাঠে আসি।
এদিকে রাজশাহী মহানগরীল ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ শনিবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় পবিত্র কোনআন তেলাওয়াতের পর জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। এখন চলছে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) নেতৃত্বে দেশাত্মবোধক গান ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দেও বক্তব্য।
এর আগে সকালে মাদ্রাসা মাঠের দুটি গেটের তালা খুলে দিলে বিএনপির নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন। সমাবেশস্থল থেকে আশপাশের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে লাগানো হয়েছে দেড় শতাধিক মাইক।
সমাবেশ প্রস্তুতির মিডিয়া উপ-কমিটির আহ্বায়ক তোফাজ্জল হোসেন তপু বলেন, ‘ঢাকা থেকে জাসাসের কেন্দ্রীয় নেতারা এসছেন। এছাড়া বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে জাসাসের শিল্পীরা কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন।’
সমাবেশে আসা নেতাকর্মীরা বলছেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হুমকি-বাঁধা, লাঠি নিয়ে সড়কে অবস্থান ও যানবাহন থেকে নামিয়ে দেওয়ার পরও রাজশাহীর গণসমাবেশস্থলে জড়ো হয়েছেন তারা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনাকীর্ণ হয়ে উঠছে সমাবেশস্থল। স্লোগান আর মিছিলে মিছিলে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
সমাবেশস্থলে আসা চাপাইনবাবগঞ্জের বিএনপি কর্মী সেকেন্দার আলী বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়ন থেকে প্রায় হাজার খানেক লোক এসেছে। মোড়ে মোড়ে পুলিশের চেকপোস্টে তল্লাশির কারণে আমরা পদ্মা নদী দিয়ে ট্রলারে করে গণসমাবেশে এসেছি। তারপরও পথে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে।’
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বিজয় বশাক বলেন, ‘সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে দুপুর ২টা থেকে। তবে তারা এখনই শুরু করেছে। আমাদের অতিরিক্ত দেড় হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।’
নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি, জ্বালানি তেল ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদসহ বিভিন্ন দাবিতে বিএনপি তাদের দশটি বিভাগে সমাবেশ করছে। এরই ধারাবাহিকতা রাজশাহীতে আজ সমাবেশ করছে। দুপুর ২টার দিকে নগরের ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে এ সমাবেশের মূল পর্ব শুরু হওয়ার কথা। সমাবেশে প্রধান অতিথি রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
গত তিনদিন থেকে বিভিন্ন জেলার লক্ষ লক্ষ নেতা কর্মিরা সমাবেশ স্থলের চারিপাশে অবস্থান করছিল। মাদ্রাসা মাঠের গেট খোলার সাথে সাথে মাদ্রাসা মাঠ ভর্তি হয়ে যায়।সমাবেশ স্থলের আশেপাশের রাস্তা ও পদ্মাপাড় প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে লোকে লোকারন্য হয়ে যায়।
© Deshchitro 2024