মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে বাড়ির পাশের পুকুর হতে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। জানা গেছে, ফাতেমা আক্তার (৬) কে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ ফেলে দেয়া হয় বাড়ির পাশের পুকুরে। ধর্ষক এবং ঘাতক সাব্বির হত্যার দায় স্বীকার করলে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সিরাজদিখান থানা পুলিশ রশুনিয়া ইউনিয়নের রশুনিয়া গ্রামের ব্যাঙ্গ দিঘী নামে একটি পুকুরের কচুরিপানার নিচ হতে ফাতেমা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে।


শিশু ফাতেমা উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের পূর্ব রশুনিয়া গ্রামের কুয়েত প্রবাসী মো. শহিদুল ইসলামের মেয়ে এবং রশুনিয়া মাহমুদিয়া নূরানীয়া মাদ্রাসার শিশু শ্রেণির নিয়মিত ছাত্রী।


এর আগে গেলো মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের পূর্ব রশুনিয়া গ্রামের বাড়ির পাশে ওয়াজ মাহফিলে এসে ফাতেমা নিখোঁজ হয়। মঙ্গলবার রাতে রশুনিয়া গ্রামের পূর্বপাড়ায় ওয়াজ মাহফিলকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী দোকান বসে। সেখানে আইসক্রিম বিক্রি করার জন্য বসে একই ইউনিয়নের উত্তর তাজপুর গ্রামের নাহিদ খানের ছেলে সাব্বির খান (২৫)। আত্মীয়-স্বজনরা জানান, সাব্বির ফ্রিতে শিশু ফাতেমাকে আইসক্রিম খাইয়েছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা বুধবার দুপুরে সন্দেহজনকভাবে আইসক্রিম বিক্রেতা সাব্বির খানকে আটক করে সিরাজদিখান থানায় সোপর্দ করে। এ ঘটনায় ফাতেমার মা বিলকিস বেগম বাদী হয়ে গত বুধবার সিরাজদিখান থানায় মামলা করেন। মামলায় ঘাতক সাব্বিরকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে।



নিহত ফাতেমার চাচা মাওলানা মো. এরশাদ বলেন, ‘ঘাতক সাব্বির একজন মাদকসেবী, আমরা তার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’


রশুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু সাইদ জানান, এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজমান। নিহতের আত্মীয়-স্বজন এবং এলাকাবাসী ধর্ষক ও হত্যাকারী সাব্বিরের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছেন।



সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ শাহেদ আল মামুন বলেন, শিশু ফাতেমাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ ফেলে দেয়া হয় পাশের একটি ডোবায়। ঘাতক সাব্বিরের তথ্যমতে বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে তাজপুর গ্রামের ব্যাঙ্গ দিঘী নামে একটি পুকুর থেকে ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার করে মরদেহ মুন্সীগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়েছে। 



তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার রাতেই ফাতেমাকে হত্যা করা হয়। নিহত শিশুর মা বিলকিস বেগম বুধবার বাদী হয়ে আইসক্রিম বিক্রেতা ঘাতক সাব্বিরকে আসামি করে মামলা করেন। সাব্বিরকে গ্রেফতার করে রিমান্ড চাইলে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দেয়।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024