ঢাকা (পহেলা মার্চ ২০২৫) 


ফ্লাগুনের শেষ দিনগুলোতে যখন বসন্ত তার শেষ সৌন্দর্য বিলায়ে দেয় তখনই 'তিতুমীর কলেজ ক্যাম্পাসে'এক অন্যরকম পরিবর্তন লক্ষ্যে করা যায়  ক্লাসরুমগুলোতে তালাবদ্ধ ,নেই শিক্ষার্থীদের পদচারণায়,জানালার কাচে ধুলো জমেছে, শুন্য বেঞ্চগুলো যেন অপেক্ষা করছে আবার প্রাণ ফিরে পাওয়ার। বারান্দার কোনায় জমে থাকা শুকনো পাতাগুলো বাতাসের হালকা স্পর্শে একাকী ঘুরে বেড়ায়। ছুটির দিনগুলোতে এক অদ্ভুদ নীরবতা। নীরব নিস্তব্ধতা এক নিভৃত শূন্যতা ছড়িয়ে রয়েছে ক্যাম্পাসটিতে ।


বেলায়েত চত্তরের নান্দনিক দৃশ্য: 


কলেজের বেলায়েত চত্বরে যখন বসন্তের হাওয়া বয়তে শুরু করে গাছের শুকনা পাতা একে একে ঝরে পড়ে, মাঝে মাঝে সেসব শুকনো পাতা যেন এক অতীতের গল্প বলে চলেছে। ঝরে পড়া শুকনো পাতার চিহ্ন বলে যায় সবকিছু পরিবর্তনশীল কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়।


সবুজের মায়ায় জড়ানো, পাখির কিচিরমিচির শব্দ, প্রাণ জুড়ানো দখিনা বাতাস, ফুলের সুগন্ধ আর স্নিগ্ধ হওয়ায় প্রকৃতির কোমল মায়ার চাদরে জড়িয়ে রয়েছে রাজধানীর  শহীদ মীর নিসার আলী তিতুমীরের নামে (তিতুমীর কলেজ ক্যাম্পাস)। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক শহীদ মামুনের ক্যাম্পাস হওয়ায় সবার আবেগের জায়গা

তিতুমীর ক্যাম্পাস 


শহীদ মামুন - নীরবে ফুটে থাকা এক চির সবজ প্রতীক: 


 তিতুমীর কলেজের আঙিনায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি পুরনো কৃষ্ণচূড়া গাছ, যার ডালে লাল ফুল ফুটে থাকে প্রতিবার বসন্তে, যেন মামুনের ত্যাগের অনুরণন। এই ফুলগুলো যেন বলে যায়— ‘আমি মরিনি, আমি রয়ে গেছি তোমাদের মাঝে, তোমাদের সাহসের প্রতিচ্ছবিতে।' যেন তিনি ফুল হয়ে ফুটেছেন তরুণদের মনে।


কলাভবন ও বিজ্ঞান  ভবনের ভিতরের বিস্ময়কর প্রতিচ্ছবি:


কলাভবনের ঠিক সামনের উঁচু কৃষ্ণচূড়া,কড়ই গাছগুলো থেকে কখনো কখনো শোনা যায় বাতাসে উড়ে আসা কোকিলের ডাক,সাথে নতুন সবুজে সেজে উঠেছে।

তাল তাল দিয়ে ঠিক তার বিপরীত পাশে বিজ্ঞান ভবনের চারপাশ জুড়ে নিম গাছের স্নিগ্ধ সমারোহ। পুরানো পাতাগুলা ঝরে গিয়ে কচিপাতার আনাগোনায়  নান্দনিক দৃশ্য  একে চলেছে উঁচু কড়ই ,কৃষ্ণচূড়া, নিম আর মেহগুনি গাছগুলো।   


কলেজ প্রাঙ্গণে পথ চলতে চলতে নানান বৃক্ষ আর ফুলের সমারোহ দেখে মনে হয় এ যেন শহীদ মামুন ফুল হয়ে ফুটেছে। ১১ একরের এই ক্যাম্পাসে রয়েছে পঞ্চাশ প্রজাতিরও বেশি প্রায় ১০ হাজার গাছ এবং বাহারি রকমের ফুল।  প্রাঙ্গণ যেন দর্শনার্থীদের কাছে এক সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে পরিণত হয়েছে। 


নিঃস্তব্ধ লাইব্রেরি ও ফাঁকা ক্যান্টিন:

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024