৫০ বছরাধিককাল ভোগদখলীয় রেকর্ডীয় পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ২৮ বিঘা জমির মৎস্য ঘের জবর দখলেরর প্রতিকার প্রার্থনা করে ৪ টি অসহায় পরিবার। শনিবার দুপুরে আশাশুনি প্রেস ক্লাবে এ পরিবারের লোকজন উপস্থিত হয়ে প্রতিকার প্রার্থনা করে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেন। 
আশাশুনির উত্তর বলাবাড়িয়া গ্রামের মৃত জনদ্দন মন্ডলের ছেলে তুষার কান্তি, তরুন মন্ডলের স্ত্রী বিশাখা রাণী, অরুন মন্ডলের স্ত্রী শর্মিষ্ঠা ও মিলন মন্ডলের স্ত্রী জানান, তাদের দুর্গাপুর বড় মৌজায় সিএস ৭৭, এসএ ১৯৯, বিআরএস ৫০০ খতিয়ানে ৩৫৭২, ৩৫৭৩, ৩৫৭৯, ৫১০৫ ও ৫১০৬ দাগে এবং ৫৪৫ খতিয়ানে ৫০০১ সহ ৮টি দাগে ৯.৩১ একর জমিতে ৫০ বছরাধিককাল মৎস্য ঘের করে শান্তিপূর্ণ ভোগদখল করি। গত বছর ১৭ আগষ্ট আশাশুনি গ্রামের হামিদ মোড়লের পুত্র হাদী, মজিদ ও সামাদ, উত্তর বলাবাড়িয়ার মৃত অখিল মন্ডলের ছেলে খোকন, আশাশুনির আফসার মোড়লের ছেলে অহিদুল আমাদের মৎস্য ঘেরে ঢুকে জবর দখল করতে আসে। তারা ঘেরে জাল টেনে ৫/৭ লক্ষ টাকার মাছ লুট করে। বাধা দিতে গেলে মারপিট, মহিলাদের শ্লীলতাহানি, গালিগালাজ ও হুমকী প্রদান করে। আমরা নিরাপত্তাহীন ও অসহায় হয়ে পড়ি। স্থানীয় ভাবে কোন প্রতিকার না পেয়ে ১৫ অক্টোবর থানায় জবর দখলকারীদের বিরুদ্ধে জিডি করি। জিডি নং ৫৮৭। তখন পুলিশ নিস্ক্রীয় থাকায় কোন প্রতিকার পায়নি। এনিয়ে থানায় বসাবসি হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এরপর থেকে দখলকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। আমাদের ঘরের মধ্যে আটকে আগুনে পোড়ানো, বাচ্চাকাচ্চাদের খুন যখম, মহিলাদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কথা বলে হুমকী দিয়ে আসছে। এমনকি বাড়িতে গিয়ে প্রকাশ্যে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে নির্দেশ দিয়েছে। কান্নায় বুক ভাষিয়ে তারা বলেন, দখলকারীরা মহিলাদের মানহানি করে থাকে, বাড়িতে থাকতে পারছিনা। রাতের বেলায় ঘুমাতে পারিনা। ঠিকমত খেতে পারিনা। চরম নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছি। উপার্জনের পথ বন্ধ, বাইরে যাওয়ায় ভীতি, ঘেরের আয় কেড়ে নেওয়া, ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠানো নিরাপদ না হওয়া, পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা না পাওয়ায় আমাদের জীবন অতিষ্ঠ ও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। তারা প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন। 
প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024