রোজা শুধুমাত্র ধর্মীয় ইবাদতই নয়, এটি শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক দিক থেকেও অত্যন্ত উপকারী। নিচে কুরআন ও হাদিসের আলোকে রোজার কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা তুলে ধরা হলো—

কুরআন ও হাদিস অনুযায়ী রোজার উপকারিতা

১. রোজা তাকওয়া অর্জনের মাধ্যম

আল্লাহ তাআলা বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

বাংলা অর্থ:
"হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।"
📖 (সূরা আল-বাকারা: ১৮৩)


২. রোজা পাপ মোচনের মাধ্যম

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
"যে ব্যক্তি ঈমান ও পূর্ণ প্রত্যাশার সাথে রমজানের রোজা রাখে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।"
📖 (সহিহ বুখারি: ৩৮, সহিহ মুসলিম: ৭৬০)


৩. রোজাদারের জন্য জান্নাতের বিশেষ দরজা রয়েছে

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
"নিশ্চয়ই জান্নাতে ‘রাইয়ান’ নামে একটি দরজা আছে। কিয়ামতের দিন রোজাদারগণ এই দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের ছাড়া আর কেউ এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে না।"
📖 (সহিহ বুখারি: ১৮৯৬, সহিহ মুসলিম: ১১৫২)


৪. রোজা দেহের জন্য উপকারী ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যম

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
"রোজা রাখো, সুস্থ থাকবে।"
📖 (তাবরানি: ৮৬৫২, মুসনাদে আহমদ: ৮৩৫৪)

রোজা রাখার ফলে দেহের হজমপ্রক্রিয়া বিশ্রাম পায় এবং শরীরের অপ্রয়োজনীয় টক্সিন বের হয়ে যায়, যা স্বাস্থ্যকর জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।


৫. রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দের মুহূর্ত

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
"রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দের মুহূর্ত আছে— এক, যখন সে ইফতার করে, আর দুই, যখন সে তার প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাৎ করবে।"
📖 (সহিহ বুখারি: ১৯০৪, সহিহ মুসলিম: ১১৫১)


৬. রোজা জাহান্নাম থেকে রক্ষা করে

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
"রোজা জাহান্নামের আগুন থেকে ঢালের মতো রক্ষা করে।"
📖 (সহিহ বুখারি: ১৮৯৪, সহিহ মুসলিম: ১১৫১)


৭. রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে প্রিয়

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
"রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মিসকের চেয়েও সুগন্ধিময়।"
📖 (সহিহ বুখারি: ১৮৯৩, সহিহ মুসলিম: ১১৫১)


৮. দোয়া কবুল হওয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সময় রোজার সময়

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
"তিন ব্যক্তির দোয়া কখনো ফিরিয়ে দেওয়া হয় না— ১) রোজাদারের দোয়া ইফতারের সময়, ২) ন্যায়পরায়ণ শাসকের দোয়া, ৩) মজলুমের দোয়া।"
📖 (তিরমিজি: ৩৫৯৮, ইবনে মাজাহ: ১৭৫২)


৯. রোজা কিয়ামতের দিনে সুপারিশ করবে

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
"কিয়ামতের দিন রোজা ও কুরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে— ‘হে আল্লাহ! আমি তাকে দিনে খাবার ও পানীয় থেকে বিরত রেখেছি, তুমি তার জন্য সুপারিশ কবুল করো।’"
📖 (মুসনাদে আহমদ: ৬৬২৬, তাবরানি: ৪২৭১)


১০. রোজা আত্মসংযম ও ধৈর্য শেখায়

আল্লাহ তাআলা বলেন:
إِنَّمَا يُوَفَّى ٱلصَّـٰبِرُونَ أَجْرَهُم بِغَيْرِ حِسَابٍ

বাংলা অর্থ:
"নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদের প্রতিদান দেওয়া হবে হিসাব ছাড়াই।"
📖 (সূরা আজ-জুমার: ১০)

রোজা ধৈর্য ও আত্মসংযম শেখায়, যা একজন মুমিনের চরিত্র উন্নত করতে সহায়ক।


উপসংহার

রোজা শুধু ধর্মীয় ইবাদতই নয়, এটি মানুষের শারীরিক সুস্থতা, মানসিক প্রশান্তি, আত্মশুদ্ধি এবং আখিরাতের মুক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে রমজানের রোজা যথাযথভাবে পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024