◾মো. রিয়াজুল ইসলাম || মহান আল্লাহ নারী ও পুরুষকে সৃষ্টি করেছেন একে অপরের পরিপূরক হিসেবে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আর আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি একটি আত্মা থেকে এবং তার থেকে সৃষ্টি করেছি তার সঙ্গিনীকে এবং তাদের দুজন থেকে সৃষ্টি করেছি অসংখ্য পুরুষ এবং নারী।” (সূরা নিসা: ১)


ইসলামের পূর্বে, অন্ধকার যুগে কন্যা সন্তানদের জীবন্ত কবর দেওয়া হতো। ইসলাম কন্যা সন্তানদের সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের সম্মানিত করেছে। রাসূল (সা.) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।” মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত ঘোষণা করে ইসলাম মায়েদের সর্বোচ্চ সম্মান নিশ্চিত করেছে।



ইসলামে নারীদের অধিকার:


পারিবারিক অধিকার: ইসলাম পরিবারে বোনদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে এবং তাদের জন্য সম্পদ ও জমি বণ্টনে নির্দিষ্ট অংশ বরাদ্দ রেখেছে।


বৈবাহিক অধিকার: স্ত্রী হিসেবে নারীদের অসাধারণ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। রাসূল (সা.) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার স্ত্রীদের কাছে উত্তম।” নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিবাহের সময় দেনমোহর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।


সামাজিক অধিকার: ইসলাম নারী ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করেছে, যা সমাজে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।



বর্তমান প্রেক্ষাপট:


দুঃখজনকভাবে, বর্তমান সমাজে ইসলামের আদর্শ থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণে নারীরা বিভিন্নভাবে নিগৃহীত হচ্ছে। তথাকথিত নারীবাদের নামে নারীদের পণ্য হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং তাদের মর্যাদা হরণ করা হচ্ছে। নারী ও কন্যাশিশু ধর্ষণ এবং নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে।



আমাদের করণীয়:

• ইসলামের শিক্ষাকে অনুসরণ করে নারীদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা।

• নারীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করা।

• নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং অপরাধীদের যথাযথ শাস্তির দাবি জানানো।

• ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নারীদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে আনার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো।


নারীর মর্যাদা রক্ষায় আমাদের সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। নারীদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে।


লেখক:

মো. রিয়াজুল ইসলাম 

সেক্রেটারি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী ছাত্রশিবির

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024