চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজনদের হারিয়ে একা হয়ে গেছেন পাঁচ বছর বয়সী শিশু আরাধ্য। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি এখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামে আরাধ্যের বাবা দিলীপ কুমার ও মা সাধনা রানীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। অথচ একমাত্র ছোট্ট মেয়েটি এখনও জানে না, তার বাবা-মা আর কখনোই ফিরে আসবে না। এর আগে গত বুধবার (২ এপ্রিল) চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলায় বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১০ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন দিলীপ কুমার, তার স্ত্রী সাধনা রানী ও সাধনার বড় ভাইসহ আরও কয়েকজন। পরিবার ও আত্মীয়দের সঙ্গে ঈদের ছুটিতে কক্সবাজার ভ্রমণে যাচ্ছিলেন দিলীপ-সাধনা দম্পতি। ভোরে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে পথেই ঘটে দুর্ঘটনাটি। গুরুতর আহত হয় দিলীপের একমাত্র মেয়ে আরাধ্য ও সাধনার বড় ভাইয়ের ছেলে। আরাধ্যকে তাৎক্ষণিকভাবে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি করা হয় এবং বৃহস্পতিবার তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আরাধ্যর অবস্থা তেমন ভালো নয়। নিহত দিলীপের চাচাতো ভাই পলাশ কুমার বলেন, ভাই ও বৌদির মরদেহ গ্রামে এসে পৌঁছালে এলাকাবাসী একনজর দেখার জন্য ভিড় জমায়। পরে ধর্মীয় রীতিতে তাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। তিনি আরও বলেন, বাবা–মায়ের শেষকৃত্য হলো, কিন্তু আরাধ্য কিছুই জানে না। হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে মেয়েটি। দিলীপের বন্ধু শোভন কুমার কাজল জানান, আমরা বুধবার সকাল ১০টার দিকে জানতে পারি দিলীপ ও তার স্ত্রী মারা গেছেন। কেবলমাত্র বেঁচে আছে আরাধ্য। এ পরিবারে এখন আর কেউ নেই যে আরাধ্যের দায়িত্ব নিতে পারবে। দিলীপের বাবা একজন বৃদ্ধ। তার তিন বোনই বিধবা। দুই বোন থাকেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গে, একজন দেশে। তাদেরও আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। এমনকি আরাধ্যের মামাও একই দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। আরাধ্যের দাদু দুলাল বিশ্বাস বলেন, আমি একেবারেই অক্ষম। তারপরও এখন আমার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন আরাধ্য। তাকে আমি নিজের কাছেই রাখব। শৈলকুপা উপজেলার কাঁচেরকোল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, নিহতদের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের আহাজারি দেখেছি। পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি জানান, দিলীপ চট্টগ্রামের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। মাঝে মাঝে ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে আসতেন বাবা-মার কাছে। ঈদের কিছুদিন আগেও তিনি বাড়িতে এসেছিলেন।
প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024