
নীলফামারীর ডোমার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও সিনিয়র সাংবাদিক মোঃ আব্দুর রাজ্জাক রাজাকে সালিশ বৈঠকের নামে ডেকে নিয়ে হাত-পা ও মুখ বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত সাংবাদিক রাজা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনায় তরিকুল নামে অভিযুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ।
গত বুধবার (২রা এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের বড়রাউতা মডেল স্কুলপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। নির্যাতনের শিকার সাংবাদিক মোঃ আব্দুর রাজ্জাক রাজা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও দৈনিক জনতার প্রতিনিধি।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় দুই ঘণ্টা যাবৎ সংঘবদ্ধভাবে সাবেক কাউন্সিলর ও সাংবাদিক মোঃ আব্দুর রাজ্জাক রাজার হাত-পা ও মুখ বেঁধে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। এলাকাবাসী জানতে পেরে পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করায়।
এব্যাপারে সাংবাদিক মোঃ আব্দুর রাজ্জাক রাজা বলেন, ঐ এলাকায় পরকীয়ার একটি ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পরিবারের মাঝে অশান্তি বিরাজ করছিল। বিষয়টি সমঝোতা করে দেওয়ার জন্য বুধবার (২রা এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে আমাকে যেতে বলেন। আমি যেতে রাজি না হলে সেই এলাকার মশিয়ার রহমান অনুরোধ করে মোটরসাইকেলে নিয়ে যান। এরপর আলোচনার একপর্যায়ে ঐ এলাকার তরিকুল ইসলাম ও তার লোকজন আমার হাত, মুখ, পা বেঁধে একটি খুটিতে রশি দিয়ে পেঁচিয়ে রেখে বেধরক মারপিট শুরু করে। তাদের মারপিটে আমি গুরুতর আহত হই। এসময় মশিয়ার অনেক চেষ্টা করেও আমাকে উদ্ধার করতে না পেরে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করায়। আমাকে রক্ষা করতে স্বাধীন নামের এক যুবক এগিয়ে এলে, সেও হামলার শিকার হয়ে আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। স্বাধীনের অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে।
ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার সুলতানা রাজিয়া জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় দুইজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরমধ্যে স্বাধীন নামের একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এবিষয়ে ডোমার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আরিফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় একটি মামলা রুজু সহ ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত তরিকুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।