জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিএনপির দুই পক্ষের অন্তত ১০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় ভাংচুর করা হয়েছে কমপক্ষে ২০টি মোটরসাইকেল। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এলাকায়  পুলিশী টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) রাত ১০টা থেকে রাত সাড়ে ১১টার পর্যন্ত উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের কড়ইতলা নামাপাড়া এবং চন্দনপুর পূর্বপাড়া মোড় এলাকায় একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

সংঘর্ষে গুরুতর আহতরা হলেন, উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন (৬০), তাঁর ছোট ভাই ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি জয়নাল আবেদীন (৫৮), যুবদলকর্মী সবুজ মিয়া (৩৫), ছাত্রদলকর্মী স্বাধীন মিয়া (৩০), ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক নাজমুল হাসান ফেরদৌস (৪৫), যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান মাসুদ (৪৮), ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক (৩৫),কড়ইতলা জিয়া ছাত্র পরিষদের সভাপতি সিয়াম সরকার (১৯) এবং পাশ্ববর্তী শ্রীবরদী উপজেলার ভেলুয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক খলিল হাসান রবি (২৪)। আহতদের পাশ্ববর্তী শেরপুর সদর হাসপাতালসহ জামালপুর এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাহিদা মাফিক সরকারি বরাদ্দ ভিজিএফ কার্ড না পাওয়া, দলীয় অবমূল্যায়ন, কমিটিতে কাঙ্ক্ষিত পদ না পাওয়া, এক পক্ষ অন্য পক্ষের অতিতের হীনকার্যকলাপ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করাসহ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপিসহ সহযোগী সংগঠন যুবদলের নেতা-কর্মীরা একাধিক পক্ষে বিভক্ত হয়েছেন। এক পক্ষ আরেক পক্ষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। চলছে পাল্টাপাল্টি দোষারূপের রাজনীতি। 

সম্প্রতি ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান মাসুদকে নিয়ে ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন সরকার ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন। এতে ক্ষিপ্ত হন যুবদল নেতা মাসুদ। এক পর্যায়ে তিনি প্রতিপক্ষ যুবদল নেতা জয়নালকে

আক্রমণে অশ্লীল ভাষায় ফেসবুকে মন্তব্য করেন। এতে দূরত্ব বাড়তে থাকে উভয় পক্ষসহ তাঁদের অনুসারীদের মধ্যে।

এক পর্যায়ে গতকাল রাত ১০টার দিকে কড়ইতলা নামাপাড়া এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে চন্দনপুর পূর্বপাড়া এলাকায় আবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এসময় অন্তত ২০টি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা। খবর পেয়ে ইসলামপুর থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। 

কড়ইতলা জিয়া ছাত্র পরিষদের সভাপতি সিয়াম সরকার বলেন, 'রাত ৯টার দিকে কড়ইতলা নামপাড়া এলাকায় যুবদল নেতা ফেরদৌস এবং মাসুদ আমার ওপর অতর্কিতভাবে হামলা করে বেধড়ক মারধর করে। এ সময় আমার ভগ্নিপতি খলিল হাসান রবিকেও তারা মারধর করেছে।

গাইবান্ধা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে অবমূল্যায়নের শিকার হচ্ছি। সরকারি বরাদ্দের ভিজিএফ কার্ড অন্যন্য নেতাদের যে হারে দেওয়া হয়েছে, আমাকে সেভাবে দেওয়া হয়নি। ফলে আমাদের এলাকার গরীব মানুষ ভিজিএফ চাল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আমার ছেলে এবং মেয়ে জামাইকে মারধর করা হয়েছে।'

গাইবান্ধা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক নাজমুল হাসান ফেরদৌস বলেন, 'আমার সঙ্গে কারোর বিরোধ নেই। কিন্তু আমার ওপর হামলা করা হয়েছে। আমার মোটরসাইকেল ভাংচুর করেছে।'

গাইবান্ধা ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আওরঙ্গজেব গোল্লা বলেন, 'ভুল বুঝাবুঝি কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়েছে। বেশকিছু সিনিয়র নেতা-কর্মী নিয়ে সবপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। বিরোধ নিষ্পত্তি করার চেষ্টা চলছে। আশা রাখি, দ্রুত সময়ের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি করা হবে।'

ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল্লাহ সাইফ বলেন, 'খবর পেয়ে রাত ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আহতদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে।'


প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024