|
Date: 2025-07-07 20:57:32 |
লাখাইয়ের হাওরে নেই দেশিজাতের মাছ,বাজারে চাহিদা বেশি,দামও বেশি।
লাখাই উপজেলার হাওর থেকে পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির ছোট ছোট মাছ হারিয়ে যাচ্ছে। বছরের বর্ষার মৌসুমে সময় পানি না থাকা এবং শিল্প বর্জ্য দূষণের কারণে ও প্রজনন মৌসুমে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া। এছাড়া মনুষ্যসৃষ্ট কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে জমিতে রাসায়নিক সার ও অপরিকল্পিত মত্স্য আহরণ, প্রজনন মৌসুমে প্রজনন সক্ষম মাছ ও পোনা ধরা, কারেন্ট জালের ব্যবহার, মাছের আবাসস্হল ধ্বংস করা এবং ক্ষতিকর মৎস আহরণ সরঞ্জামের ব্যবহার করায় ধিরে ধিরে বিলুপ্তি হতে চলছে।
এক কথায় বলা যায় আমরা মাছে-ভাতে বাঙালি। কিন্তু দিনে দিনে কমছে নদী-খাল-জলাশয়! ভরাট করা হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতি ছোট মাছের অভায়ারণ্য। যে সব নদী বা খাল রয়েছে তাও আবার বিভিন্ন বিষাক্ত বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে! ফলে দেশি প্রজাতির মাছ এখন বিলুপ্ত পথে।
এক সময় লাখাইয়ের বিভিন্ন খাল-বিল, নদী থেকে বিভিন্ন প্রজাতির প্রচুর মাছ পাওয়া যেতো। বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা এ সব মাছ এখন পাওয়াই কষ্টকর। উপজেলার খাল- বিলে এবং জলাশয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকার করতো জেলেরা আর এসব ছোট মাছের মধ্যে রয়েছে চাপিলা,বৈচা, , চান্দা, চাঁদা গুড়া , গোল চাঁদা, , গুলশা, পাবদা, দেশি পুঁটি, সরপুঁটি, তিত পুঁটি, বাইলা, মেনি অথবা (ভেদা), শিং, কৈ, টাকি, শোল, , কাঁচকি, মলা, ঢেলা, তাঁরাবাইম, চৌককুনী, , , চিংড়ি গুড়া, সেললোশ, খৈলশা, ছোট টেংরা, বড় টেংরা, বজুরি , ছোটচিংড়ি, বাতাশি, বড় বাইন, তারা বাইন, শালবাইন, চিত্রা বাইন, টেমবইছা, মাগুর , দাঁড়িয়া গুড়া, টেম বইছা, সহ নাম না জানা অনেক প্রজাতির দেশি মাছ।
কৃষিজমিতে অনিয়ন্ত্রিত কীটনাশক ও অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার, খাল-বিল-ডোবা ভরাট, উন্মুক্ত জলাশয়ে সেচে ও বাঁধ নির্মাণসহ মাছের বিচরণক্ষেত্রের প্রতিকুল পরিবর্তনের কারণে এরকম বিপর্যয় ঘটছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
এক যুগ আগেও এ অঞ্চলে বিভিন্ন প্রজাতির ছোট-বড় দেশীয় মাছ পাওয়া গেলেও বর্তমানে এসব মাছের অনেক প্রজাতিই বিলুপ্তির পথে।
একসময় জলাভূমিতে দেশীয় মাছের প্রাচুর্য ছিল। কিন্তু এখন বেশ কিছু প্রজাতির মাছ তেমন দেখা যায় না। দেশীয় প্রজাতির অনেক মাছ বিলুপ্তির কারণে স্থানীয় জেলেদের সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে আলাপকালে জানা যায় বর্ষা মৌসুমে মা মাছগুলো ডিম ছাড়ে। ওই সময় এক শ্রেণির মৎস্য শিকারি এগুলো ধরে ফেলে। এতে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন হয় না। তা ছাড়া কতিপয় মাছ চাষি বিভিন্ন দিঘি, পুকুর ইত্যাদি জলাশয় ইজারা নিয়ে বা ফসলি জমিতে মাছের ঘের তৈরি করে। এসব জলাশয় ও ঘের বিভিন্ন রাসায়নিকদ্রব্য ব্যবহার করে দেশীয় প্রজাতির মাছ ধ্বংস করে ফেলছে।
এ ছাড়া কৃষিজমি থেকে রাসায়নিক পদার্থ বর্ষার সময় ও বিভিন্ন কারখানার বর্জ্য খালের মাধ্যমে নদী ও জলাশয়ে পড়ে পানি দূষিত করছে। ফলে দেশি প্রজাতির মাছ দিন দিন কমে অনেকটা বিলুপ্তির পথে।
স্থানীয় পরিবেশ কর্মী ও সাংবাদিক মহিউদ্দিন আহমেদ রিপন জানান, লাখাই উপজেলার সুতাং, সাঁকাতি, বেলেশ্বরী-কানাই, মনিখাই, বলভদ্র, ধলেশ্বরী, মন্দিরপল্লা খালসহ মুক্ত জলাশয়গুলোতে শিল্পবর্জ্যের প্রভাব পড়েছে। এজন্য মাছ কমে যাচ্ছে। এখনও যে পরিমাণ মাছ আসে সেগুলো রক্ষায় নদীতে সরাসরি শিল্পবর্জ্য নিঃস্বরণ বন্ধ করতে হবে। এ বিষয়ে লাখাই উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কনিক চন্দ্র শর্মা বলেন, এ বছর বর্ষা বিলম্বিত হওয়ায় মাছের বংশবৃদ্ধি সঠিকভাবে হয়নি। এজন্য মাছের উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। শিল্পবর্জ্যও মাছ কমে যাওয়ার কারণ। পোনামাছ অবমুক্ত ও অভয়াশ্রম গড়ে এই সমস্যা দূর করার চেষ্টা চলছে।
© Deshchitro 2024