|
Date: 2025-07-11 11:20:43 |
◾এ কে এম আব্দুল্লাহ আল মাসুদ : বাংলাদেশের রাজনীতির আঙিনায় অনেক নেতা এসেছেন গিয়েছেন। কিন্তু খুব কম সংখ্যক নেতা তাদের ত্যাগ, নিষ্ঠা ও মানবিকতা দিয়ে থেকে যায় মানুষের হৃদয়ের গভীরে। মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল ভাই ঠিক তেমনই একজন নেতা৷ যিনি শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মী নন; তিনি জামালপুরের মেলান্দহ-মাদারগঞ্জবাসীর আশা-ভরসার প্রতীক, নিরাপত্তার শেষ আশ্রয়স্থল এবং স্বপ্নের রাখাল রাজা।
ছাত্র রাজনীতি থেকে রাজপথের আন্দোলন:
মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল ভাই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। ছাত্রজীবনেই তাঁর রাজনীতির প্রতি অদম্য আকর্ষণ এবং দেশপ্রেম তাকে যুক্ত করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাথে। অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর নেতৃত্বগুণ, দূরদৃষ্টি ও সাংগঠনিক দক্ষতায় তিনি নির্বাচিত হন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবে। তাঁর নেতৃত্বে ৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী গণআন্দোলনের ইতিহাস এক উজ্জ্বল অধ্যায়। তখন সারা দেশের ছাত্রসমাজ রাজপথে নেমেছিল স্বৈরশাসনের অবসান ঘটাতে। বাবুল ভাই ছিলেন সেই আন্দোলনের সামনের সারির কাণ্ডারি। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ছাত্র ইউনিয়নের হাজারো কর্মী বুক চিতিয়ে রাজপথে দাঁড়িয়েছিল, গুলি, টিয়ারশেল, লাঠিচার্জ উপেক্ষা করে। স্বৈরাচার পতনের সেই বিজয় ছিনিয়ে এনে ছিলেন।
“তিনি ইতিহাসে খোদাই এক নাম
-৯০-এর আন্দোলনের অগ্রনায়ক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল।
জেল-জুলুম থামাতে পারেনি তাকে
তিনি লড়েছেন জনতার অধিকারে
গড়ে তুলেছেন গণতন্ত্রের স্বপ্ন।
আজও তিনি প্রেরণার মশাল হয়ে
অন্যায়ের বিপক্ষে, সত্যের পক্ষে
অটল, অবিচল।”
বিএনপির রাজনীতিতে যোগদান ও ত্যাগের ইতিহাস:
এরপর সময়ের প্রবাহে দেশ যখন গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরল, তখন মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল ভাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপিতে যোগদান করেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে বিএনপির রাজনীতিতে তার প্রবেশ ঘটে। দলের নেতৃত্ব তার দক্ষতা ও সততাকে সম্মান জানিয়ে তাঁকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সম্পাদক পদে আসীন করে। কিন্তু তার রাজনৈতিক জীবন কুসুমস্তীর্ণ ছিল না। বিগত ১৭ বছর ধরে তিনি অব্যাহতভাবে জেল-জুলুম, মামলা-হামলা ও নানা প্রকার হয়রানির শিকার হয়েছেন। তবু একবারও নীতির পথে থেকে সরেননি। কঠিন সময়ে মেলান্দহ-মাদারগঞ্জের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছেন ছায়ার মতো।
মেলান্দহ-মাদারগঞ্জের মানবিক কান্ডারি:
রাজনীতি ছাড়াও মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল ভাইয়ের আরেকটি বড় পরিচয় তিনি একজন মানব দরদী মানুষ। নিজের ব্যক্তিগত ফান্ড থেকে তিনি বছরের পর বছর মেধাবী অথচ অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করেছেন। শিক্ষার আলো যাতে কোনো গরিব ঘরের সন্তান থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই চেষ্টায় তিনি সর্বদা নিবেদিত। মেলান্দহ-মাদারগঞ্জের মানুষ নির্দ্বিধায় বলেন, ‘আমরা তার হাতে নিরাপদ। তিনি কখনো নিজের জন্য কিছু চান না, সবসময় জনগণের কথা ভাবেন।’
আমার ব্যক্তিগত স্মৃতি:
আমার তার সাথে প্রথম পরিচয় ২০২২ সালে। প্রথম দেখাতেই মুগ্ধ হয়েছিলাম তার সহজ, সাদামাটা, হৃদয়ছোঁয়া আচরণে। আমার হাত ধরে বলেছিলেন, ‘আমাদের সময় এখন ভালো না কৌশলে চলতে হবে। তবু মানুষকে ভুলে গেলে চলবে না।’ এই কথাগুলো এক ধরনের দার্শনিকতা বুনে দিয়েছিল আমার মনে। যতবারই তার সঙ্গে দেখা হয়েছে, ততবারই মনে হয়েছে এমন সৎ, প্রজ্ঞাবান, মানবিক মানুষ রাজনীতিতে সত্যিই বিরল।
সাধারণ মানুষের কাছে তার জনপ্রিয়তা:
আমি যখন মেলান্দহ-মাদারগঞ্জের সাধারণ মানুষের কাছে তার কথা তুলেছি, তখন তাদের চোখেমুখে যে আলোকছটা দেখেছি, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
জাতীয় নির্বাচন ও আমাদের প্রত্যাশা:
আমার বিশ্বাস, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে মেলান্দহ-মাদারগঞ্জবাসী ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিপুলভাবে বিজয়ী করবে মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল ভাইকে। কারণ এই মানুষটিই পারেন এই অঞ্চলের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে। তিনি বারবার বলেছেন ‘আমার কোনো চাওয়া নেই। আমি শুধু জনগণের সেবা করতে চাই। এটাই আমার রাজনীতি।’
লেখক:
সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
© Deshchitro 2024