জামালপুরের মাদারগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহিদুল হাসানের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে আদালতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে গত বুধবার (৯ জুলাই) আইনগত প্রতিকার চেয়ে মো. কাফিউল নামে একব্যক্তি জামালপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছন এসপি। তবে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন অভিযুক্ত এসআই জাহিদুল হাসান। 

অভিযোগকারী কাফিউল মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ গ্রামের আহসান উল্লাহর ছেলে। তিনি বর্তমানে পাশ্ববর্তী ইসলামপুর পৌর শহরের দক্ষিণ দরিয়াবাদ এলাকায় বসবাস করছেন। 

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ জানুয়ারি মাদারগঞ্জের পূর্ব সুখনগরী গ্রামের মৃত সোলায়মানের ছেলে সানাউল্লাহকে আসামি দিয়ে ২২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ভুক্তভোগী কাফিউলের স্ত্রী মেরিনা বেগম জামালপুরের ইসলামপুর সিআর আমলি আদালতে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলাটি ইতিমধ্যে জামালপুরের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা রয়েছে মর্মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। মামলা করার পর আসামি ছানাউল্লাহ মাঝে-মধ্যে ইসলামপুরে এসে মামলা প্রত্যাহার করতে কাফিউলসহ তাঁর পরিবারের সদস্যকে বিভিন্ন ভয়-ভীতির হুমকি দেয়। এনিয়ে গত ১০ মার্চ সানাউল্লার বিরুদ্ধে ইসলামপুর সিআর আমলি আদালত মামলা করেন মেরিনা বেগম। মামলাটি ইসলামপুর থানা-পুলিশ তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ২৭ মার্চ আসামি সানাউল্লাহ কাফিউলের বিরুদ্ধে ২৬ লাখ টাকা আত্মসাতের মিথ্যা এবং ভুয়া অভিযোগ তোলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মাদারগঞ্জ সিআর আমলি আদালতে মামলা করে। 

কাফিউলের দাবি, মামলায় উল্লেখিত সময় ও তারিখে ঘটনাস্থলে তিনি উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ডাহা মিথ্যা। এ ছাড়া মামলায় উল্লেখিত সাক্ষীদের মধ্যে নিরপেক্ষ কোনো ব্যক্তি নেই। সবগুলো সাক্ষী প্রতিপক্ষ সানাউল্লাহর আত্মীয়-স্বজন। এসত্ত্বেও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জাহিদুল হাসান মোটা অংকের  টাকার বিনিময়ে সানাউল্লাহর পক্ষে আদালতে মনগড়া প্রতিবেদেন দাখিল করেছে। 

অভিযোগকারী মো. কাফিউল বলেন, 'টাকা আত্মসাতের মামলা থেকে রেহাই পেতে সানাউল্লাহ মিথ্যা অভিযোগ তোলে উলটো আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। সানাউল্লাহর কাছে মোটা অংকের টাকা নিয়ে আমার বিরুদ্ধে আদালতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মনগড়া প্রতিবেদন দিয়েছে এসআই জাহিদুল। আইনগত প্রতিকার পেতে এসপি স্যারের কাছে অভিযোগ করেছি।'

সানাউল্লাহ বলেন, 'আমি সত্য ঘটনায় মামলা করেছি। প্রতিবেদন দিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জাহিদুলকে টাকা দিইনি।'

অভিযুক্ত মাদারগঞ্জ মডেল থানার এসআই মো. জাহিদুল হাসান তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'আমি স্বাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছি। আমার দেওয়া প্রতিবেদনে সংক্ষুব্ধ হলে, আদালতে নারাজি দিতে পারে।'

প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ নারাজি দিতে পারে কী? এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এসআই জাহিদুল হাসান।

জামালপুরের এসপি সৈয়দ রফিকুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'এসআইয়ের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'


প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024