‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে ১৬ জুলাই রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।


এই দিবসকে ঘিরে সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীদের ভাবনা তুলে ধরেছেন কলেজ প্রতিবেদক হাদিসুর রহমান।


বাংলা বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন,১৬ জুলাই, বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি বেদনাবিধুর দিন, যা আমরা জুলাই শহীদ দিবস হিসেবে স্মরণ করি। এই দিনে যারা অন্যায়, অবিচার এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

এই দিবস শুধু শোক প্রকাশ নয়, বরং শিক্ষা ও প্রেরণার উৎস। শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের শিখিয়েছে ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় থাকা এবং দেশের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করার মানসিকতা।


তিনি আরও বলেন,আজকের প্রজন্মের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আমাদের উচিত শহীদদের আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে সমাজে সত্য, ন্যায় ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করা। এটাই হবে তাঁদের আত্মত্যাগের প্রকৃত সম্মান।


সমাজকর্ম বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী নিষাদ বলেন,জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশের নিয়ামত। এই মাসে গভীর রাতে তাহাজ্জুদের অশ্রু ঝরে পড়ে ছিল নিস্তব্ধ মাটির বুকে।

এই মাস মন থেকে দেশত্যাগের চিন্তা মুছে দিয়ে জন্মভূমির প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা জাগায়। রাজপথে নামে তরুণ-তরুণী, হাতে পতাকা, কণ্ঠে বিপ্লবের স্লোগান।

এই মাস শুধু সময়ের পর্ব নয়, এটি এক জীবন্ত ইতিহাস যেখানে মিশে আছে আবেগ, শ্রদ্ধা, হাহাকার ও বিজয়ের বিস্ময়।


তিনি আরো বলেন,এক বছর পূর্তিতে তাঁদের জানাই বিপ্লবী সালাম—যাঁরা স্বপ্ন ও সত্যের জন্য সংগ্রামে অংশ নিয়েছিলেন। কৃতজ্ঞতা মহান আল্লাহর প্রতি, যিনি আমাদের জুলাইকে করেছেন শাশ্বত, দিয়েছেন বিজয়, সম্মান ও আশা।


বাংলা বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী মো. হাসান মাহমুদ বলেন,একটি দেশের শহীদরা হলেন সেই দেশের সবচেয়ে সম্মানিত মানুষ। আওয়ামী লীগ নামের শোষকদের হাত থেকে মুক্তি পেতে যাঁরা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের ভুলে গেলে নতুন বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে না।

এই শহীদদের সম্মান জানানোর জন্যই ‘জুলাই শহীদ দিবস’। এই চেতনা যেন আমর হৃদয়ে সর্বদা জাগ্রত থাকে।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024