মোঃ ফরমান উল্লাহ,  বিশেষ প্রতিনিধি 

নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলায় আলোকিত হয়ে আসা তাসিনের জীবন এখন অন্ধকারে। ৯ বছর পূর্বে শিরিন-রফিক দম্পত্তির ঘর আলোকিত করে পৃথিবীতে আগমন করে। তাসিনের মা-বাবা অনেক খুশি হয়েছিল। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস জন্মের পর থেকেই তাসিন অন্য আর পাঁচ জনের মত বেড়ে উঠে নি। বয়স বাড়ার সাথে সাথে তাসিনের শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। 

পূর্বধলা উপজেলার লাউজানা গ্রামে তাসিনের বাড়ি। তাসিনের বাবা একজন দিন মজুর। তাসিনের জন্মে মা বাবা আনন্দিত হলে ও বর্তমানে তাদের দুঃখের শেষ নেই। তাসিনের বর্তমান বয়স ৯ বছর হলেও শারীরিক গঠন ৩/৪ বছরের বাচ্চার মত। তাসিন কথা বলতে পারে না,হাটতে পারে না, নিজের হাতে খেতেও পারে না। তাসিনের পা দুটি অবস। তাসিন মাটিতে গড়াগড়ি করে ঘরের ভিতরে চলাচল করে।

তাসিনের মা জানান টাকার অভাবে ছেলের চিকিৎসা করাতে পারছে না। তাসিনের বাবা দিন মজুরি করে যে আয় করে তা দিয়ে সংসার চালানো কস্ট সাধ্য হয়ে পড়ে। তাসিনকে বিভিন্ন সময় ডাক্তার পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করানো হয়েছে।করোনাকালীন সময়ে আর্থিক অনটনে তাসিনের চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়। এখন অর্থের অভাবে তাসিনের চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে।

এ প্রতিবেদক যখন তাসিনের বাড়িতে যায় তখন তাসিন ঘরের দরজার সামনে বসে চৌকাঠে নিজের মাথায় নিজেই আঘাত করতে দেখা যায়। তাসিনের মা বলেন সব সময় হাত অথবা ঘরের দরজার চৌকাঠ বা ঘরের বেড়ায় সাথে মাথায় আঘাত করতে থাকে।
 
তাসিনের মা বলেন ডেলিভারির সময় সমস্যা হয়েছিল। পরে ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার বলেছে সময় মত ডেলিভারি না হওয়ায় মাথায় সমস্যা হয়েছে। সময়মত চিকিৎসা করলে তাসিন স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারতো। টাকা অভাবে এখন আর চিকিৎসা করতে পারছেন না। এখন আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়েছেন। একথা বলে তাসিনের মা শিরিন কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

তাসিনের চাচী জেসমিন বলেন তাসিনের এ কস্ট দেখে আমাদের ও কস্ট হয়।  তাদের আদরের সন্তানের জীবন এখন অন্ধকারে।  দুই ভাই বোনের মধ্যে তাসিন বড়।

 সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে এবং সাহায্যের হাত বাড়িয়ে তাসিন অন্য শিশুদের মত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে। ঘর আলোকিত  করে আসা তাসিনের জীবন এখন অন্ধকারে।
প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024