রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা মিরপুর। এখানে প্রতিদিন লাখো মানুষ অফিস, বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও নানা প্রয়োজনে যাতায়াত করেন। কিন্তু এলাকার স্থানীয় সড়কগুলোর বেহাল দশায় সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।


মিরপুরের ১, ২, ৬, ১০ ও ১৩ নম্বর সেকশন ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সড়ক ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। কোথাও গভীর গর্ত, কোথাও আবার দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা খোঁড়াখুঁড়ির চিহ্ন। টানা কয়েকদিন বৃষ্টি হওয়াতে গর্তগুলোতে পানি জমে রাস্তাকে ছোট ছোট পুকুরে পরিণত করেছে। এছাড়া শুকনো মৌসুমে ধুলোবালিতে পথচারী ও যানবাহন চালকরা নাকাল হন।


একজন রিকশাচালক দৈনিক দেশচিত্রকে বলেন, “ভাঙা রাস্তায় রিকশা চালাতে তাদের কষ্ট হয়। যাত্রীরাও বিরক্ত হন। অনেক সময় টায়ার ফেটে যায় বা রিকশা উল্টে যায়।”


পাশাপাশি স্থানীয়দের অভিযোগ,  অপরিকল্পিত ভাবে রাস্তা সংস্কার করে দায়িত্বশীলরা। দায়িত্বশীল বিভাগগুলোর মধ্যেও নেই সমন্বয়। প্রতিদিন ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে এসব সড়কে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরা প্রায়ই হঠাৎ পড়ে যান গর্তে। শিশু ও বয়স্ক মানুষদের জন্যও এসব সড়ক মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।


স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়কের গর্তে জমে থাকা পানি শুধু দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে না, মশার প্রজননকেন্দ্র হিসেবেও কাজ করছে। এতে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও অন্যান্য জলবাহিত রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা বাড়ছে। ইতোমধ্যে এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।


ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অধীনে থাকা এসকল সড়ক সংস্কারের কাজ দীর্ঘ ১ বছর ধরে ধীর গতিতে চলছে। অন্তবর্তীকালীন সরকারের স্থানীয় প্রশাসন বিভাগ ও সুষ্ঠি নজরদারি করতে পারছে না।


তাই মিরপুরের অভ্যন্তরীণ এলাকাগুলোতে বাড়ছে চরম দূর্ভোগ। যা সমাধানের জন্য কোন কতৃপক্ষ ই এগিয়ে আসছে না। এরুপ অবস্থায় অভিভাবকহীন চলছে মিরপুর। এলাকাবাসীর দাবি, টেকসই পরিকল্পনার আওতায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করা এবং সড়কের মান উন্নত করতে হবে। অন্যথায় কয়েক মাসের মধ্যেই আবারো একই সমস্যায় পড়তে হবে।


মিরপুরের মানুষ এখন দ্রুত ও কার্যকর সড়ক সংস্কারের অপেক্ষায়। তারা মনে করছেন, উন্নত সড়ক শুধু চলাচলের সুবিধাই দেবে না, বরং এলাকার অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।


প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024