জামায়াতে ইসলামীর যশোর জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের মেয়ে মেহজাবিন জান্নাত অনন্যা সম্প্রতি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন। নাগরিক ঐক্যের বাঘারপাড়া উপজেলা কমিটির সদস্যসচিব মনোনীত হওয়ার পর থেকেই তাকে নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়। সমালোচনার মুখে অবশেষে তিনি পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন।গত ১৮ আগস্ট নাগরিক ঐক্য যশোর জেলা শাখার পক্ষ থেকে ১৯ সদস্যের বাঘারপাড়া উপজেলা কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এই কমিটিতে মেহজাবিনকে সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হলে তার বাবার রাজনৈতিক পরিচয় সামনে আসে। জামায়াতের মতো ভিন্ন আদর্শের একটি দলের নেতার মেয়ের নাগরিক ঐক্যে যোগদান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।মেহজাবিন জান্নাত অনন্যা যশোর আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী। তিনি "যশোর কমিউনিটি" নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও কাজ করছেন। জুলাই আন্দোলনে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল বলে জানা গেছে।বিতর্কের মুখে মেহজাবিন তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি লেখেন, "সদ্য প্রকাশিত নাগরিক ঐক্য বাঘারপাড়া কমিটির সদস্যসচিব পদ থেকে অব্যাহতি নিলাম। এ বিষয়ে মিথ্যা এবং বানোয়াট কথা বলা থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে অনুরোধ করছি।"

গণমাধ্যমকে মেহজাবিন জানান, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন। তিনি জামায়াতের অঙ্গসংগঠন ইসলামী ছাত্রী সংস্থায় যুক্ত ছিলেন এবং সেখান থেকেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন। তার দাবি, ভুলবশত তাকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল এবং আপাতত তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে থাকছেন না। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দলে যুক্ত হলে তা জামায়াতই হবে। নাগরিক ঐক্য যশোর জেলার আহ্বায়ক ফেরদৌস পরশ জানান, রাজনীতি করার গণতান্ত্রিক অধিকার সবারই আছে। তিনি বলেন, "তিনি তার চিন্তা-চেতনার জায়গা থেকে এ দলে এসেছেন। তার সম্মতি না থাকলে আমরা তাকে কীভাবে কমিটিতে রাখলাম?" যদিও মেহজাবিন বাঘারপাড়া কমিটি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, দলের নেতারা জানান যে তিনি যশোর সদর উপজেলার কমিটিতে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024