নোয়াখালী জেলার চরজব্বার থানার পুলিশ একটি চাঞ্চল্যকর হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে। সকালে চরজব্বার থানায় একটি ফোন আসে, যেখানে ১নং চরজব্বার ইউপির ৫নং ওয়ার্ডে জনৈক নুরুল ইসলামের বাড়ির পাশে একটি অজ্ঞাত পুরুষের লাশ পাওয়া গেছে জানানো হয়। নিহত ব্যক্তির বয়স প্রায় ৫৫।


পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ হেফাজতে নেন। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদের পর লাশের পরিচয় মিলানো হয়। পুলিশ ও স্থানীয় গোয়েন্দা টিমের তল্লাশি ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে জানা যায়, মৃত ব্যক্তি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থানাধীন বিরাহিমপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ রফিকুল ইসলাম।


তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন ভিকটিমের কাছের দুই বন্ধু—মনির হোসেন (৩৭) ও মোঃ লিটন (২৬)। তাদের বাড়ি চরজুবলী ইউনিয়নে। মনির হোসেন অনলাইনে জুয়ায় আসক্ত ছিল এবং ঋণগ্রস্ত ছিলেন। তিনি ও লিটন পরিকল্পনা করে ভিকটিমকে হত্যা করে অটোরিক্সা ছিনতাই করতে চেয়েছিলেন।


২৫ আগস্ট বিকেল ৪:৩০ ঘটিকার সময় মনির হোসেন ভিকটিমকে একটি ট্রিপে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। ভিকটিম রাজি হলে লিটনকে যাত্রী হিসেবে নিয়ে বের হন। পরে তারা বসুরহাট বাইপাস এলাকায় পৌঁছে নাস্তা ও তিনটি কোমল পানীয় গ্রহণ করে। মনির একটি বোতলে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে ভিকটিমকে পান করান।


ভিকটিম অচেতন হয়ে পড়লে মনির নিজেই অটোরিক্সা চালাতে শুরু করেন এবং লিটনের কাছে ভিকটিমকে রাখেন। সন্ধ্যা ৭:৩০ এর সময় চরজব্বার থানাধীন একটি রাস্তার পাশে মনির গামছা দিয়ে ভিকটিমের গলায় পেচ দিয়ে হত্যা নিশ্চিত করেন এবং লাশ ফেলে অটোরিক্সা নিয়ে পালান।


মোঃ রফিকুল ইসলামের মেয়ে মৌসুমী বেগম (২২) চরজব্বার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ও RAB যৌথ তদন্তে নামে। ৩০ আগস্ট রাত ২:০৫ ঘটিকার সময় মনির হোসেন ও লিটন কোম্পানীগঞ্জের সিরাজপুর ইউনিয়নের একটি গ্যারেজ থেকে আটক হন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার দায় স্বীকার করেন। হত্যার কাজে ব্যবহৃত অটোরিক্সা ও গামছা উদ্ধার করা হয়েছে। তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।


পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হত্যার মূল কারণ ছিল মনির হোসেনের ঋণ শোধ ও অটোরিক্সা ছিনতাই।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024