|
Date: 2025-09-04 14:19:56 |
◾মো তুহিন হোসেন : গাজা এক ভূখণ্ড যা মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর মানবিক বিপর্যয়ের সাক্ষী। আজকের শুধু একটি ভূখণ্ড নয় এটি মানবতার উৎসর্গের স্থান যেখানে নারী, শিশু, বৃদ্ধরা প্রতিদিন মৃত্যুকে আলিঙ্গন করছে। ৭ই অক্টোবর ২০২৩ থেকে ৩১ শে আগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত ৬৩৪৫৯ জন মানুষ। মৃত্যুবরণ করেছে, এর মধ্যে ১৮৪০০জন শিশু। মধ্য সাংবাদিক ও গণমাধ্যম কর্মী ১৬৬ জন, শিক্ষাবিদ ১২০ জন, মানবিক সহায়তা কর্মী ২২৪ জন এছাড়াও গাজার অধিকাংশ হাসপাতাল অফিস আদালত বিদ্যালয় ধ্বংস স্তূপে পরিণত হয়েছে। ২০২৫ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী গাজার ৭০% অঞ্চল নো গো জোন ঘোষণা করে ১৭৮৯টি বিল্ডিং উচ্ছেদ করেছে এবং ৪৫২৪ জন মানুষকে জোরপূর্বক স্থানান্তর করেছে ইসরাইল সেনা। গাজার মানুষের বিদ্যুৎ, সুপ্রিয় পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র, ট্যাবলেট সর্বোপরি চরম খাদ্য সংকটে গাজা মৃত্যুর নগরীতে পরিণত হয়েছে।
তারা এতই নিষ্ঠুর যে ত্রাণ সংগ্রহের সময় ইজরাইলি বাহিনীর বোমা হামলায় অনেক শিশু মৃত্যু বরণ করছে, অনেক শিশু ক্ষুধার যন্ত্রণায় কাতর হয়ে একসময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে । সম্প্রতিক মাসে ৫৭ জন শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। এমনকি ত্রাণ বিতরণের সময়ও তারা ইসরাইল হামলা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। গাজায় চরম দুর্বিক্ষ দেখা দিয়েছে। শিশুরা বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না 6০০০০০ শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
অথচ ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা করা হয়। যার মূল লক্ষ্য ছিল বিশ্বশান্তি স্থাপন করা। জাতিসংঘ আজ একটি ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। জাতিসংঘের স্লোগান ছিল "এ পৃথিবী আপনার" পৃথিবী যদি আমারই হয় তাহলে ফিলিস্তিনিদের জন্য নয় কেন? জাতিসংঘ দীর্ঘদিন ধরে শুধু বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছে কিন্তু কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছে না এর মূল কারণ জাতিসংঘ এখানে একটি দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছে। যদিও বলা হয় জাতিসংঘ একটি সর্বজনীন প্রতিষ্ঠান কিন্তু আদতে জাতিসংঘ আমেরিকাকেই প্রাধান্য দিয়েই যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে ফলে বিশ্ব আজ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজমান।
রাজনীতির খেলাঘর : গাজার বিপর্যয় কেবল মানবিক বিপর্যয় নয় এটি হয়ে উঠেছে বিশ্ব রাজনীতির খেলাঘর যেখানে ইসরাইলের পার্শ্ববর্তী দেশ ইরান, পাকিস্তান, মিশর, তুরস্ক, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচীর অনেক দেশ ইচ্ছা করলেই ইসরাইলকে কিছুটা হলেও চাপ ফেলতে পারে । কিন্তু সেটা মুসলিম নেতৃবৃন্দ নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য ফিলিস্তিনি ইস্যুতে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। কারণ মিশরের স্বৈরাচারী ক্ষমতা টিকে আছে ইসরাইল ও আমেরিকার সাথে আতাঁত করেই । অপরদিকে সৌদি আরব রাজতন্ত্র যেটি ইউরোপ, আমেরিকা, ইসরায়েলর সাথে আঁতাত করে ক্ষমতায় টিকে আছে। বি বিশ্ব জ্বালানির ১২% সৌদি আরব থেকে আসে। সর্বোপরি বিশ্ব জ্বালানীর ৫০ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ করা হয় সুতরাং মধ্যপ্রাশয় চাইলেই বিশ্ব অর্থনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে তারা চাইলে ইসরাইলের স্বৈরাচারী মনোভাব ও দমন করতে পারে। কিন্তু তারা বাণিজ্যিক স্বার্থের জন্য অন্ধ হয়ে আছে।
সবাই যার যার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য ইসরাইল, আমেরিকার যৌথ যুদ্ধে জড়াতে চাই না। ১৯৬৯ সালে মুসলিম প্রধান দেশগুলোর নিয়ে OIC গঠিত হয়। OIC গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও জেরুজালেমকে পুনরুদ্ধার কিন্তু মুসলিম নেতারা নিজস্ব স্বার্থে নিজেদের মধ্যে নানা দ্বন্দ্বে জড়িয়ে গেছে যার ফলশ্রুতিতে ইসরায়েল আজ এত হিংস্র হয়ে উঠেছে। ইসরাইলের চারপাশে শক্তিধর মুসলিম দেশ থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ক্রমাগত না নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে ।
এহেন পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনিদের মুক্তির একমাত্র উপায় হল মুসলিম উম্মার ঐক্য। সমগ্র মুসলিম দেশগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইউরোপ আমেরিকাসহ পশ্চিমা সকল দেশের সাথে অর্থনৈতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করে ও চাপ সৃষ্টি করে ইজরায়েলের আগ্রাসী মনোভাবকে প্রতিহত করা সম্ভব। এছাড়া মুসলিম দেশগুলো নিজেদের ভিতরে সকল দ্বন্দ্ব ভুলে গিয়ে ফিলিস্তিন বিষয়ে একক অবস্থান নিতে হবে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিকভাবে ইজরাইলকে বয়কট করতে হবে। আন্তর্জাতিকভাবে তাদের পন্য ও প্রতিষ্ঠান বয়কট করতে হবে। মিডিয়ার মাধ্যমে গাজার সঠিক অবস্থা তুলে ধরতে হবে সর্বশেষ ইসরায়েলের দখলত্বকে অবৈধ ঘোষণা করে ইন্টারন্যাশনাল আদালতে মামলা চালানো। তবেই ফিলিস্তিনের মুক্তি মিলবে।
লেখক
মো তুহিন হোসেন,
ঢাকা কলেজ।
© Deshchitro 2024