ঘন কুয়াশা আর শীতের কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন মেহেরপুরের খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষেরা। চলতি সপ্তাহের প্রথম  দিকে পুরো জেলা কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ার পর তীব্র শীতে রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর, রাজমিস্ত্রীসহ নানা শ্রেনী পেশার মানুষেরা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।

ঘন কুয়াশায় সীমান্তবর্তী মেহেরপুর জেলার সদর, গাংনী ও মুজিবনগর উপজেলার বিভিন্ন বাজার মোড়, সড়ক এলাকার রোডঘাট গুলোতে ঘন কুয়াশার কারণে ধীরগতিতে যান চলাচল করতে দেখা গেছে। দিনের বেলাতেও অনেকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করেছে।

গত দু'দিন শীতের দাপটে জনজীবনে দূর্ভোগের পাশাপাশি কর্মহীন হয়ে পড়ার অবস্থা এখানকার খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষগুলোর।

নিন্ম আয়ের মানুষেরা জানান, তীব্র কুয়াশা আর শীতের কারণে মানুষ ঘরের বাইরে কম বের হচ্ছে। জরুরী প্রয়োজন ও অফিসগামী মানুষ ছাড়া বাইরে তেমন লোকজনের আনাগোনা নেই।

গাংনী উপজেলার পশ্চিম মালশাদহ গ্রামের বায়তুল  বলেন, দিনের অধিকাংশ সময়েই তীব্র ঠান্ডা আর শীত অব্যাহত থাকছে। এ কারণে জরুরী প্রয়োজন আর অফিসগামীরা ছাড়া রাস্তায় কেউ বের হচ্ছে না।

মাইলমারী গ্রামের পাখিভ্যান চালক হাশেম আলী জানান, দিনের অনেকটা সময় যাত্রী অভাবে বসে থাকতে হচ্ছে। পাখি ভ্যান নিয়ে তেমন আয় করতে না পারায় ভোগান্তিতে আছি।

গাংনী শহরের এক ভ্যান চালক জানান, ঠান্ডা আর শীতে লোকজন শহরে আসবে কি? নিজেই কাহিল হয়ে পড়েছি। লোকজন না থাকায় সারাদিনে ভাড়া হয়নি। সন্ধার দিকে শহরে যানবাহন ও জনচলাচলও নেই। অনেকেই শীতের কাপড় পেঁচিয়ে চায়ের দোকানগুলোতে ঝুপি মেরে বসে আছে।

তীব্র ঠান্ডা ও শীত অব্যাহত থাকায় অনেককেই খড়কুটো জ্বালিয়ে তাতে আগুন পোহাতে দেখা গেছে।

চায়ের দোকানগুলোতে আগের থেকে লোকজনের সমাগম কম রয়েছে। বয়স্ক লোকজনের উপস্থিতি একেবারেই নেই। 

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র মতে, আরও কয়েকদিন আকাশ কুয়াশাচ্ছন্ন ও ঘোলাটে থাকতে পারে। এমন কুয়াশাচ্ছন্ন   আবহাওয়া থাকায় সড়কে চলাচলকারী সকলকে সতর্কতার সহিত যানচলাচলের জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024