◾ মুফতি খালেদ কাসেমি 


পৃথিবীতে বিভিন্ন ধরনের প্রাণী রয়েছে, যা মহান আল্লাহর সৃষ্টি। এর মধ্যে মানুষকেই পূর্ণমাত্রায় বুদ্ধি ও বাক্শক্তি দেওয়া হয়েছে। মানুষের প্রতি এটি আল্লাহ তাআলার বড় অনুগ্রহ। 


আল্লাহ তাআলার কাছে মানুষের প্রতিটি কথা সংরক্ষিত থাকে। কেয়ামতের দিন এসবের হিসাব দিতে হবে। তাই আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুযায়ী মুখের সঠিক ব্যবহার করা উচিত। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন, ‘মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে, তার জন্য একজন প্রহরী নিযুক্ত আছে, যে (আমলনামা লেখার জন্য) সদা প্রস্তুত।’ (সুরা কাফ: ১৮)


তাই কথা বলার আগে এর পরিণতি সম্পর্কে ভালোভাবে চিন্তা করতে হবে। কথা বলতে হলে সত্য বলতে হবে; নতুবা চুপ থাকাই শ্রেয়। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন, ‘তাদের অধিকাংশ গোপন পরামর্শে কোনো কল্যাণ নেই, তবে কল্যাণ আছে দান-খয়রাত, সৎকর্ম ও মানুষের মধ্যে শান্তি স্থাপনের নির্দেশে; আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আকাঙ্ক্ষায় কেউ তা করলে তাকে অবশ্যই আমি মহা পুরস্কার দেব।’ (সুরা নিসা: ১১৪)


মহানবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে, নতুবা চুপ থাকে।’ (বুখারি শরিফ) 

অধিক কথা বলার কারণে অনেক সময় বিপদে পড়তে হয়। বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তাই শুধু এমন কথা বলা উচিত, যাতে পার্থিব কিংবা অপার্থিব কোনো উপকার নিহিত থাকে। যে ব্যক্তি বেশি কথা বলে, তার তত ভুল হয়। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি কম কথা বলে; অধিক চিন্তা করে, তার ভুল কম হয়। নবীজি (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি চুপ থাকল, সে মুক্তি পেল।’ (মিশকাত)


লেখক: শিক্ষক ও ইসলামবিষয়ক গবেষক

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024