লাখাইয়ে তীব্র গরমে তৃষ্ণা মিটাতে আইস মিশ্রিত কোমলপানি,স্বাস্থ্য ঝুকিতে সাধারণ মানুষ। লাখাইয়ে গরমে অতিষ্ট হয়ে নিজেকে একটু প্রশান্তি দিতে অনেকেই ছুটছেন রাস্তার ধারের লেবুর সরবত কিংবা আখের রসের দোকানের দিকে। কিন্তু রাস্তার পাশের এসব খোলা শরবত কতটা স্বাস্থ্যকর সে ব্যাপারে সচেতন আছেন কয়জন? মঙ্গলবার (২৩শে সেপ্টেম্বর ) বুল্লাবাজারে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় রমরমা ব্যবসা করছেন শরবত বিক্রেতারা। রাস্তার পাশে ভ্যানে করে তারা শরবত বিক্রি করছেন। প্রতিদিনে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকার ব্যবসা করেন তারা। রাস্তার ধুলা-বালু, গাড়ির ধোয়া ইত্যাদির মধ্যেই এসব লেবুর শরবত এবং আখের রস তৈরি এবং বিক্রি হচ্ছে। লেবুর শরবত তৈরি করতে তারা ব্যবহার করছেন লেবু, বিট লবন, স্যালাইন, ট্যাঙ, চিনির পানি এবং আখের রস তৈরিতে তারা আখের রসের সাথে আইস মেশান। যা এই প্রচন্ড গরমে কিছুটা হলেও স্বস্তি প্রদান করে। তবে কিছু ক্রেতার অভিযোগ রয়েছে যে শরবত এবং আখের রসের সাথে সেকারিনের পানি মেশানো হয় এবং যে লেবু ব্যবহার করা হয় তা পচাঁ বা নষ্ট থাকে। আমির হামজা নামের এক কলেজ ছাত্র বলেন, ‘সারাদিন এই গরমের মধ্যে ক্লাস করে অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। তাই বাসায় ফেরার সময় একটু ঠান্ডা কিছু না খেলেই না। রাস্তার শরবত গুলো ফ্রেস ও কমদামী হওয়ায় এগুলোই খাওয়া পরে বেশি। তবে অনেক সময়ই দেখা যায় তাদের লেবু নষ্ট। তাদের (দোকানি) দের কিছু জিজ্ঞেস করলে বলে এগুলোর রং-ই এমন। আর আখের রস খাইতে গেলে দেখি যেই মিষ্টি! আখ বাস্তবে এত মিষ্টি তো হওয়ার কথা না। এরা সেকারিন দেয়।’ এ ব্যপারে কালাউক বাজারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আখের রস বিক্রেতা বলেন, ‘আমরা সেকারিন দেইনা, আজকাল এই ভেজালের দুনিয়ায় মানুষ একটু ভালো ও খাটি জিনিস খাইবো তাই তো আখের শরবত খায়। এর সাথে আমরা শুধু লেবু মিলাই। তবে আমাদের ব্যবসায় অনেকে এই কাম করে। গেন্ডারি সেকারিনের পানিতে চুবাইয়া রাখে নয়তো সেকারিনের পানি দিয়া বরফ বানায়। কিন্তু আমরা গেন্ডারিতে ভালো পানি ছিটাই আর বরফ কিনা আনি।’ বামৈ বাজারের লেবুর শরবত বিক্রেতা আব্দাল মিয়া বলেন, ‘আমরা বাজার থেকে ভালো লেবুই আনি। নষ্ট লেবু মানুষেরে দিমু কেন? দেখা যায় সারা দিন লেবু এই রোদে থেকে একটু হলুদ হইয়া যায়, কিন্তু নষ্ট হয় না। স্বাস্থ্যবিদদের মতে, কোমল পানীয় ও আইসক্রিম একসঙ্গে সেবন করা উচিত নয়, কারণ এতে মেশানো কৃত্রিম চিনি এবং অন্যান্য উপাদান শরীরের জন্য ক্ষতিকর। কোমল পানীয়তে থাকা উচ্চ মাত্রার চিনি ও কৃত্রিম উপাদান যেমন ফসফরাস ডাই অক্সাইড দাঁত ও হাড়ের ক্ষতি করতে পারে, যা দীর্ঘ মেয়াদে স্থূলতা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।
প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024