স্তন ক্যান্সার আজকাল নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এমন একটি ক্যান্সার। এটি শুধুমাত্র একটি রোগ নয়, বরং একজন নারীর মানসিক, সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। সঠিক সময়ে শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা শুরু হলে এই রোগ থেকে অনেকাংশেই সুস্থ হওয়া সম্ভব। তাই সচেতনতা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়া অত্যন্ত জরুরি।


স্তন ক্যান্সার কী?

স্তনের কোষ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করলে এবং সেটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, স্তন ক্যান্সার তৈরি হয়। স্তনের লোবিউল (দুধ উৎপাদনকারী গ্রন্থি) বা ডাক্ট (দুধ বহনকারী নালী) থেকে ক্যান্সারের শুরু হয়। তারপরে এটি আশপাশের টিস্যু এবং শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।


ঝুঁকির কারণ

কিছু নির্দিষ্ট ঝুঁকির কারণে একজন নারীর স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১) বয়স: ৪০ বছরের বেশি হলে। 

২) পারিবারিক ইতিহাস থাকলে।

৩) হরমোনজনিত পরিবর্তন, যেমন দীর্ঘ সময় মাসিক চলা বা দেরিতে মেনোপজ হওয়া।

৪) অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, যেমন স্থূলতা, ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণ

৫) প্রথম সন্তান দেরিতে নেওয়া বা সন্তানকে স্তন পান (Breast Feed) না করা


উপসর্গ

স্তন ক্যান্সারের কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো:

১) স্তনে বা বাহুমূলে অস্বাভাবিক গাঁট অনুভব

২) স্তনের আকার বা আঙ্গিকে পরিবর্তন

৩) স্তন বা বোঁটায় অস্বাভাবিক লালচে ভাব, ব্যথা বা ফোলা

৪) বোঁটা থেকে রক্তাক্ত বা অস্বাভাবিক তরল নির্গমন

৫) ত্বকের ওপর কমলালেবুর খোসার মতো দাগ বা ভাঁজ পড়া।

এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।



প্রতিরোধ ও সচেতনতা


১) নিয়মিত জীবনযাপন এবং সচেতনতাই প্রতিরোধ করতে পারে স্তন ক্যান্সার. যেমন:

২) নিয়মিত স্ব-পরীক্ষা (Breast Self-Examination) করা

৩) প্রতি বছর চিকিৎসকের পরামর্শে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা

৪) ৪০ বছরের পর নিয়মিত মেমোগ্রাফি করানো

৫) সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

৬) ধূপাপান ও অ্যালকোহল পরিত্যাগ করা।

৭) নবজাতক সন্তানকে নিয়মিত স্তন পান (Breast Feed) করানো। 


চিকিৎসা

স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা নির্ভর করে এর পর্যায়ের উপর। সার্জারি, কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন থেরাপি, হরমোন থেরাপি এবং টার্গেটেড থেরাপি বর্তমানে ব্যবহার করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে সফলতার হার অনেক বেশি।

স্তন ক্যান্সার ভয়ংকর হলেও এটি প্রতিরোধযোগ্য এবং নিয়ন্ত্রণযোগ্য রোগ। প্রাথমিক সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তাই প্রতিটি নারীকে নিজের স্বাস্থ্যের বিষয়ে সচেতন হতে হবে



নাম: এস. এম. এম. মুসাব্বির উদ্দিন 
ইউএমসি ০৭
সেশন: ২০২০-২১
ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024