রংপুরের পীরগাছায় জমিজমা সংক্রান্ত জের ধরে এক নারীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। ন্যায়বিচার চেয়ে সোমবার (১৩ অক্টোবর) রাতে ভূক্তভোগী রহিমা বেগম পীরগাছা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। ঘটনাটি উপজেলার অন্নদানগর ইউনিয়নে জগজীবন গ্রামে ঘটে। 

অভিযোগ পত্রে যাদেরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন-ওই গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে আবু তাহের মাস্টার, আবু বক্কর, ও আব্দুল আউয়াল, আব্দুল আউয়ালের ছেলে আবু রায়হান ও আব্দুর রাজ্জাক, আবু তাহের মাস্টারের স্ত্রী মোর্শেদা বেগম, আব্দুল আজিজের ছেলে আব্দুর রহমান, আব্দুর রহমানের স্ত্রী হাসিনা বেগম ও নুরুল হকের ছেলে ফিরোজ মিয়া।

জমিজমা নিয়ে বর্ণিত অভিযুক্তদের সঙ্গে একই গ্রামের মজিবর রহমানের ঝগড়া-বিবাদ চলে আসছিলো। এর জের ধরে রোববার (১২ অক্টোবর) রাতে মজিবর রহমানের স্ত্রী রহিমা বেগম তার নিজবাড়ীতে অবস্থান করছিলেন। এমন সময় অভিযুক্তরা অনধিকার প্রবেশ করে রহিমা বেগমকে এলোপাতাড়ীভাবে মারধর করতে থাকেন। এর এক পর্যায় রহিমা বেগমের পরিধেয় কাপড় টানা হেঁচড়া করে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার চেষ্টা চালান অভিযুক্তরা। এসময় রহিমা বেগমের গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন খুলে নেন তারা। যার বাজার মূল্য ১লক্ষ ৬০হাজার টাকা। পরে স্থানীয়রা আহত রহিমা বেগমকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান। 

এদিকে চিকিৎসাধীন রহিমা বেগম সুষ্ঠু ও ন্যায় বিচার চেয়ে মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিকদের সাক্ষাতকার দেন। অপরদিকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে রহিমা বেগমের ছেলে মুহাম্মদ রাব্বী মিয়া তার গর্ভধারণী মায়ের মারধরের সঠিক বিচার কামনা করেন। দোষীদের শাস্তি কামনা করেন। 

বর্ণিত অভিযুক্তরা রহিমা বেগমকে মারধর ও তার গলার স্বর্ণের চেইন খুলে নিয়েছেন কিনা-এমন প্রশ্নের উত্তর জানতে অভিযুক্ত আবু তাহের মাস্টারকে মোবাইলে যোগাযোগ করা হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এরকম কোন ঘটনা ঘটেনি। এটা তাদের সাজানো নাটক। 

সবশেষ রহিমা বেগম পীরগাছা থানায় এবিষয়ে কোন অভিযোগ দিয়েছেন কিনা বা অভিযোগ দিলেও তার কোন ব্যবস্থা নিয়েছেন কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে পীরগাছা থানা এসআই মো. শাহজাহান বলেন, এব্যাপারে একটি অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।  

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024