রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক ভবন-১ এর সভাকক্ষ-২ এ 'Thalassemia Awareness and Screening Campaign' অনুষ্ঠিত হয়।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আতিয়ার রহমান উপস্থিত ছিলেন। তিনি সকলের উদ্দেশ্য বলেন, এ রোগ নিয়ে গ্রামীণ সমাজে অনেক গল্প প্রচলিত আছে, যা কুসংস্কার দ্বারা আচ্ছাদিত। বিজ্ঞানের এ যুগে গ্রামীণ এসব বিশ্বাস থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি। তারপরও এখনো সচেতনতার অভাব রয়েছে। আজকের এ উদ্যোগ, বিশেষত কী-নোট স্পিকার আমাদেরকে থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য প্রদান করবেন। এ রোগটি কি হারে বাড়ছে তা জানা দরকার। ছোটবেলায় দেখেছি কারো চোখ, হাত, পা সাদা হয়ে গেলে জিনের আছর হয়েছে এমন কথা শুনেছি। কিন্তু এখন আমরা এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা জানি। এটি একটি জেনেটিক ডিসঅর্ডার। এছাড়া বর্তমানে নাগরিকদের জীবন যাপনের অভ্যাসগত পরিবর্তনও এর জন্য দায়ী। যেমনঃ সঠিক সময়ে না ঘুমিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত স্ক্রিন ডিভাইস ব্যবহার করায় প্রয়োজনীয় হরমোন নিঃসরণে বাঁধা, প্রসেড ফুডে অভ্যস্ত হওয়া, এস্ট্রেস থাকা ইত্যাদি অর্থাৎ লাইফ স্টাইল এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই সুস্থতার জন্য লাইফ স্টাইল রিসেইপ করা জরুরি। একটি সুস্থ প্রজন্মের জন্য বৈজ্ঞানিকভাবে জীবন যাপনের অভ্যাস গড়ে তোলা এবং তা লাভ করার জন্য সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। তার ব্যতয় ঘটলে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে আমরা দায়ী থাকবো। বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরণের সচেতনতামূলক আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং শিক্ষার্থীদেরকে বিনামূল্যে থ্যালাসেমিয়া স্ক্রীনিং এর জন্য আহবান জানান। সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনটিতে ১৫০ জন  শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা বিনামূল্যে থ্যালাসেমিয়া রোগের পরীক্ষা করেন। 


প্রোগ্রামে কী-নোট স্পিকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন Bioted এর নির্বাহী পরিচালক ড. মুহাম্মদ সওগাতুল ইসলাম। উক্ত অনুষ্ঠানটির সভাপত্বিত করেন সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন ড. মুহাম্মদ জামশেদ আলম পাটোয়ারী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চলনা করেন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ সামসিদ দোহা উৎস। 


বিশ্ববিদ্যালয়ে Bioted এ সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনটি আয়োজন করেন এবং Base Care Foundation Bangladesh ও GenX প্রতিষ্ঠানসমূহ ক্যাম্পেইনটির সার্বিক সহযোগিতা ও কারিগরি সহযোগিতায় করেন। 

 

থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রোগ যা জিন মিউটেশনের কারণে হয়। হিমোগ্লোবিন চেইনের মিউটেশনের ফলে রক্তে হিমোগ্লেবিনের মাত্রা আশংকাজনকভাবে কমে যায় এবং রোগীর দেহে পর্যাপ্ত পরিমান লোহিত রক্তকণিকা তৈরি হয় না। রক্ত সঞ্চালন এই রোগের একমাত্র সহজ চিকিৎসা, যে কারণে একজন থ্যালাসেমিয়া রোগীকে প্রতিমাসে ১ থেকে ২ ব্যাগ পর্যন্ত নিতে হতে পারে। এই রোগের চিকিৎসা হচ্ছে রক্ত সঞ্চালন, আয়রন চিলেশন, বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন ও জিন থেরাপি। এই রোগ প্রতিরোধ করার উপায় বিবাহ-পূর্ব স্ক্রীনিং, গর্ভস্থ শিশুর স্ক্রীনিং, সামাজিক সচেতনতা ও জেনেটিক কাউন্সেলিং। 


তথ্য সংগৃহীত : জনসংযোগ দপ্তর(রাবিপ্রবি)

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024