আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী ভূমিকম্প। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় হিন্দুকুশ অঞ্চলে আঘাত হানা ৬ দশমিক ৩ মাত্রার এ ভূমিকম্পে ১০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া ২৬০ জন আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে আফগান স্বাস্থ্য অধিদফতর। ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকাজ চলছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্তিক জরিপ সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভের (ইউএসজিএস) তথ্য মতে, স্থানীয় সময় সোমবার (০৩ নভেম্বর) রাত ১২টা ৫৯ মিনিটে ৬ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ অঞ্চলের মাজার-ই-শরিফ শহরের কাছে খোলমে ২৮ কিলোমিটার (১৭ মাইল) গভীরতায় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।


তবে জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস ভূমিকম্পের মাত্রা ৬ দশমিক ৪ বলে উল্লেখ করেছে। এ ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। 


রাজধানী কাবুল থেকেও ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদক। তিনি জানান, গভীর রাতে ভূমিকম্প শুরু হলে অনেক মানুষ আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। কেউ কেউ ভয়ে খোলা জায়গায় অবস্থান নেন, কারণ ঘরবাড়ি ধসে পড়ার আশঙ্কা ছিল।


সামাঙ্গান প্রদেশের স্বাস্থ্য বিভাগের মুখপাত্র সামিম জোয়ানদা রয়টার্সকে জানান, সকাল পর্যন্ত মোট ২৬০ জন আহত ও ১০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং সবাইকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।


স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত উদ্ধার প্রস্তুতি জোরদার করেছে এবং সাধারণ নাগরিকদের সহায়তার জন্য জরুরি যোগাযোগ নম্বর প্রকাশ করেছে। তবে প্রাথমিকভাবে হতাহতের কোনো খবর নিশ্চিত করা যায়নি।


মাত্র দুই মাস আগে দেশটির পূর্বাঞ্চলে এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। তারও আগে ২০২৩ সালে পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাতে ভূমিকম্পে দেড় হাজারের বেশি মানুষ মারা যান এবং প্রায় ৬৩ হাজার ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। এ বছরের ৩১ আগস্ট ৬ মাত্রার অগভীর ভূমিকম্পে আরও ২ হাজার ২০০ মানুষের মৃত্যু হয়- যা আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবে বিবেচিত।


ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত আফগানিস্তানে প্রায়ই এ ধরনের কম্পন ঘটে। বিশেষ করে হিন্দু কুষ পর্বতমালায় ইউরেশিয়ান ও ভারতীয় টেকটোনিক প্লেটের সংঘাতে ভূগর্ভে প্রায়ই শক্তি সঞ্চয় হয়, যা ভয়াবহ ভূমিকম্পে রূপ নেয়।


২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর থেকে দেশটি ধারাবাহিকভাবে নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়েছে। এসব বিপর্যয়ে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024