আজ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি দিয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ। এ কর্মসূচিকে সফল করতে জামালপুরের ইসলামপুরের আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগ নেতারা ফেসবুকে সরব রয়েছেন। 

জানা গেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত ২৩ অক্টোবর জানায়, ২০২৪ সালের আগষ্টে সংঘটিত ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায়’ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণার তারিখ আজ বৃহস্পতিবার নির্ধারণ করার কথা হবে। এ ঘোষণার পর থেকেই 'ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ।

এদিকে 'ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি সফল করতে  ইসলামপুরের আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের অনেকেই নিজ নিজ ফেসবুক আইডি থেকে বিভিন্ন মন্তব্য পোষ্ট করেছেন। 

ফেসবুক ঘেঁটে দেখা গেছে, 'জয় বাংলা ১৩ নভেম্বর' লিখে ফেসবুকে একটি রঙিন স্টিকার পোষ্ট করেছে ইসলামপুর উপজেলা আওয়ামী যুব মহিলা লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আবিদা সুলতানা যুঁথী। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শেখ হাসিনার পতনের আগের দিন ২০২৪ সালের ৪ আগষ্ট ইসলামপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গত ৩১ জানুয়ারি গভীর রাতে যুব মহিলা লীগ নেত্রী আবিদা সুলতানা যুঁথীর বাবা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল্রাহ আল সাজুকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে যুঁথীকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।


অপরদিকে শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা এবং সজিব ওয়াজেদ জয়ের ছবিসংবলিত ফেসবুকে রঙিন স্টিকার পোষ্ট করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক শ্রমবিষয়ক সম্পাদক এসএম জাহাঙ্গীর আলম। এতে তিনি লিখেন, 'শেখ হাসিনার কিছু হলে, জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে', 'চল চল ঢাকা চল, লকডাউন সফল করো', '১৩ নভেম্বর ঢাকা লকডাউন সফল হোক।'

জানা যায়, জাহাঙ্গীর ইসলামপুর পৌর শহরের দরিয়াবাদ এলাকার বাসিন্দা। গত ১৩ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে দক্ষিণ কমলাপুরের একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে পুলিশ। পরদিন ১৪ ডিসেম্বর মতিঝিল থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ঢাকার চিপ জুডিশিয়াল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর মতিঝিলে ঝটিকা মিছিল করে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকেরা। এ ঘটনার দুইদিন পর ১২ নভেম্বর ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০০ থেকে ১২০ জনকে আসামি করে মতিঝিল থানায় উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল আজিজ সেক বাদী হয়ে মামলা করেন। ওই মামলায় অজ্ঞাত আসামি হিসেবে জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। পরে দীর্ঘদিন করাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেলেও জাহাঙ্গীরকে জনসম্মুখে দেখা যায়নি।

আওয়ামী যুব লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য  কৃষিবিদ মুঞ্জুরুল মোর্শেদ হ্যাপি তাঁর পোষ্টে লিখেছেন, '১৩ নভেম্বর আন্দোলনের বীজ রোপিত হবে এবং হবেই।'

এর আগে গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে এনপিপির কেন্দ্রীয় নেতা–কর্মীদের গাড়িবহরে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের হামলার ঘটনায় তিনি ফেসবুকে লিখেছিলেন, 'কয়েকদিন থেকে একটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজে ফিরছিলাম। মার্চ টু গোপালগঞ্জ কি ? আজ তার সঠিক উত্তর খুঁজে পেলাম। তা হলো সেনাবাহিনীর ট্যাঙ্কের মধ্যে উঠে শেষ রক্ষা !'

উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জিয়াউল হক জুয়েল তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন, 'আওয়ামী লীগ যখন আসবে, চারিদিক থেকে ধেয়ে আসবে। সবই অন্ধকার করে ফিরবে।'

ইসলামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. ইমরুল হাসান বলেন, 'আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা ফেসবুকে কি ধরনের পোষ্ট করেছে, তা দেখিনি। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।'

ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) আ স ম আতিকুর রহমান বলেন, 'এজাহারভুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত। এ ছাড়া ফেসবুকে উস্কানিমূলক পোষ্টদাতাদের বিষয়েও কাজ চলছে।'

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে সমাবেশ শেষে ফিরে যাওয়ার সময় সড়ক অবরোধ করে এনপিপির কেন্দ্রীয় নেতা–কর্মীদের গাড়িবহরে হামলা চালান নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা। এ সময় পুলিশ বাধা দিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের শুরু হয়। এঘটনায় ইসলামপুরের আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের অনেকেই নিজ নিজ ফেসবুক আইডি থেকে বিভিন্ন মন্তব্য পোষ্ট করে ছিলেন।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024