|
Date: 2025-11-13 21:20:42 |
রংপুরের পীরগাছায় প্রায় ৫০বছরের যাতায়াতের রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে সংকীর্ণ করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার ইটাকুমারী ইউনিয়নের কামদেব গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। সেই গ্রামে একটি কামদেব কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়ছে রোগী সহ সাধারণ মানুষ। প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে আবেদন করেন ওই গ্রামের শতাধিক গ্রামবাসি।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কামদেব গ্রামে প্রায় ৩০ পরিবার বসবাস করে আসছে। ওই গ্রামে ২০বছর আগে কামদেব কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠিত হয়। সাধারণ মানুষ ও রোগীরা এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের করে থাকে। রাস্তাটি গ্রামের একমাত্র প্রধান চলাচলের পথ হিসেবে দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর যাবত ব্যবহার হয়ে আসছে। কিছুদিন পূর্বে হঠাৎ করে ওই গ্রামের সুলতান মিয়ার ছেলে সাজু মিয়া ও মোহাম্মদ আলীর ছেলে আব্দুল মান্নানগং মিলে রাস্তাটিতে কংক্রিটের খুঁটি দিয়ে ঘেরা নির্মাণ করে পথটি সংকীর্ণ করে করে রেখেছে।
এতে করে পরিবারগুলো অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। এছাড়াও, কামদেব কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ রোগীরা ক্লিনিকে যাতায়াত করতে পারছে না। ফলে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে প্রসূতি মা, বয়স্ক ব্যক্তি ও জরুরী রোগীদের পরিবহনের কোন ভ্যান বা মোটরসাইকেল যেতে পারেনা।
গ্রামবাসি জাকির হোসেন বলেন, তাদের সাথে আমাদের কোন ঝগড়া-বিবাদ নেই। হঠাৎ করেই ২০দিন আগে তারা ব্যারিকেড দিয়েছে। আমরা গ্রামবাসি রাস্তাটি খুলে দেওয়ার জন্য স্থানীয়ভাবে একাধিকবার অনুরোধ করেছি। কিন্তু তারা আমাদের অনুরোধ উপেক্ষা করে রাস্তাটি খুলে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তারা জনসাধারণের চলাচলের পথ রুদ্ধ করে দেওয়ায় আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়েছে।
কামদেব কমিউনিটি ক্লিনিকের সভাপতি হাবিবুর রহমান সুজন বলেন, ব্যারিকেড দেওয়াতে অনেকের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা উভয় পক্ষকে বসে বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করব।
ক্লিনিক সিএইচসিপি সেলিনা আক্তার বলেন, এ রাস্তা দিয়ে প্রসূতি মা, বয়স্ক ব্যক্তি ও জরুরী রোগীরা যাতায়াত করে কিন্তু রাস্তাটি সংকীর্ণ করাতে বয়স্ক ও প্রসূতি রোগীরা ভ্যানে করে আসতে পারেনা। আমরা চাই দ্রুত এই রাস্তাটি খুলে দেওয়া হউক।
অভিযুক্ত সাজু মিয়া বলেন, আমার সীমানায় আমি ব্যারিকেড দিয়েছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেল বলেন, তাদের দুই পক্ষকে ডাকা হয়েছিল। আগামী সপ্তাহে রাস্তাটি মাপযোগ করে সঠিক প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
© Deshchitro 2024