|
Date: 2025-11-18 17:39:59 |
উপকূলীয় পরিবেশ সংরক্ষণ, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র রক্ষা এবং সুনীল অর্থনীতি বিষয়ে জেলেদের সচেতন করতে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে কক্সবাজার জেলার অন্যতম অলাভজনক সংস্থা হাসি মুখ ইয়ুথ এন্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন। ২০১৮ সাল থেকে সংস্থাটি কক্সবাজার উপকূলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র রক্ষায় ধারাবাহিকভাবে সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে। তরুণ নেতৃত্বকে সম্পৃক্ত করে উপকূল রক্ষায় বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
সামু্দ্রিক জীববৈচিত্র রক্ষায় এই সংস্থাটি স্বনামধন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা এর সহযোগী হিসেবে ২০২১ সাল থেকে নিরলসভাবে কাজ করে আসছে। সমুদ্র সৈকত পরিচ্ছনতা নিশ্চিতে উখিয়া অঞ্চলের সোনার পাড়া, ডেইল পাড়া, ইনানী সহ বিভিন্ন বিচ পয়েন্টে ২০১৮ সাল থেকে নিয়মিত 'বিচ ক্লিনিং ক্যাম্পেইন' পরিচালনা করছে সংস্থাটি। সৈকত এলাকায় সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা ছেঁড়া জাল, প্লাস্টিক, পলিথিন, কাঁচের বোতল ও অন্যান্য কঠিন বর্জ্য অপসারণ করে সৈকতকে পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে যুক্ত রয়েছেন। এই উদ্যোগ স্থানীয় পর্যটন পরিবেশ যেমন নিরাপদ রাখছে, তেমনি সামুদ্রিক প্রাণী বিশেষ করে কচ্ছপ, লাল কাঁকড়া, মাছ ও ডলফিনের আবাসস্থল রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
পরিবেশ সুরক্ষার ধারাবাহিকতায় সংগঠনটি উপকূলীয় এলাকায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। ঝড়-জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা এর লক্ষ্য। পাশাপাশি তারা স্থানীয় জেলেদের সুনীল অর্থনীতি (Blue Economy) সম্পর্কে সচেতন করছে। সমুদ্রসম্পদ টেকসই ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার উপরে গুরুত্বারোপ করছে।
ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশ এর গবেষণা সহযোগী আরিফুর রহমান জানান, "উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষায় স্থানীয় জনগণের সক্রিয় সম্পৃক্ততা জরুরি। হাসি মুখ ইয়ুথ অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন তরুণদের পাশাপাশি জেলেদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করছে, যাতে তারা নিরাপদ মাছ ধরা, প্লাস্টিক ব্যবহার কমানো এবং সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণে আরো সচেতন হোন।"
সংস্থার সভাপতি মোহাম্মদ জাহেদ জানান, উপকূল রক্ষা, জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ও সুনীল অর্থনীতিতে জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি সংগঠনটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে:
১) নিয়মিত বিচ ক্লিনিং কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়ানো।
২) স্কুল-কলেজে পরিবেশবান্ধব শিক্ষা সেশন বৃদ্ধি।
৩) জেলেদের জন্য সুনীল অর্থনীতি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান।
৪) কমিউনিটি ভিত্তিক জীববৈচিত্র রক্ষা কর্মসূচি গ্রহণ।
৫) প্লাস্টিক রিসাইক্লিং নিশ্চিতে সহযোগিতা।
সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মাহাবুবুল আলম (কাউসার) মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদি এসব উদ্যোগ উপকূলীয় অঞ্চলকে টেকসই পরিবেশ ব্যবস্থাপনার একটি মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
© Deshchitro 2024