টঙ্গীর তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার টঙ্গী ক্যাম্পাসে বেতন–ফি বৃদ্ধি ও প্রশাসনিক নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে চার দফা দাবিতে বিক্ষোভে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকালে আলিম দ্বিতীয় বর্ষের মানবিক ও বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করলে পরে অন্যান্য বর্ষের শিক্ষার্থীরাও এতে যোগ দেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ—দাবিগুলো দীর্ঘদিন ধরে জানানো হলেও প্রশাসনের তরফে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় আন্দোলন ছাড়া উপায় ছিল না। সকালে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এক ঘণ্টা অবস্থান এবং স্লোগান কর্মসূচির পর তারা মাঠে সমবেত হন।

শিক্ষার্থীদের প্রধান চারটি দাবি হলো-

১. হঠাৎ বেতন বৃদ্ধি বাতিল এবং আগের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ

২. অতিরিক্ত পরীক্ষার ফি কমানো

৩. ছাত্রকল্যাণ তহবিল থেকে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান

৪. স্কলারশিপ চালুর ব্যবস্থা


এছাড়াও বাস সার্ভিস চালু ও অ্যাকাডেমিক মাঠ সংস্কারের দাবিও জানিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা।

দীর্ঘসময় অবস্থান কর্মসূচির পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাড়া না পেয়ে শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটক ভেঙে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন। দেড় ঘণ্টার মতো যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ অনুরোধ করলে তারা ক্যাম্পাসে ফিরে আসে।

ফিরে আসার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ—মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষক তাদের ওপর চড়াও হয়ে মারধর করেন, বহু শিক্ষার্থী আহত হন এবং কারও জামাকাপড় ছিঁড়ে যায়। লাঠিচার্জের মতো পরিস্থিতিও সৃষ্টি হয়।

টাকসুর দায়িত্বশীলদের ওপর হামলার অভিযোগও তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। জিএস সাইদুল ইসলামকে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হাতাহাতিতে রূপ নেয় বলেও তারা দাবি করেন।

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের যৌক্তিক দাবি মানা না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে, প্রয়োজনে পরীক্ষা বর্জনেও যেতে পারেন তারা।

জিএস সাইদুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা মাঠে থাকবো। যারা আন্দোলনে শক্তি প্রদর্শন করেছে, তাদের বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত আসবে।”


এ বিষয়ে মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ ড. হিফজুর রহমান বলেন, “এখন কথা বলতে পারব না। আমরা মিটিংয়ে আছি, পরে জানানো হবে।”

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024