অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে লিবিয়ার উপকূলে মাফিয়াদের গুলিতে মাদারীপুরের তিন যুবক নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন—মাদারীপুর সদর উপজেলার আদিত্যপুর গ্রামের ইমরান খান, রাজৈরের দুর্গাবর্দ্দী গ্রামের মুন্না তালুকদার এবং ঘোষলাকান্দি গ্রামের বায়েজিত শেখ। মঙ্গলবার তাদের মৃত্যুর খবর পরিবারে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।


পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় দেড় মাস আগে ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ইমরান খান প্রতিবেশী ও মানবপাচারচক্রের সদস্য শিপন খানের মাধ্যমে বাড়ি থেকে বের হন। ২২ লাখ টাকায় ইতালি পৌঁছে দেওয়ার চুক্তি হলেও পরে লিবিয়ায় আটকে রেখে ইমরানের পরিবারের কাছে আরও ১৮ লাখ টাকা আদায় করা হয়। গত ১ নভেম্বর লিবিয়া থেকে নৌকায় ইতালির উদ্দেশে যাত্রার সময় ভূমধ্যসাগরে মাফিয়ারা নৌকায় গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিন বাংলাদেশি।


নিহত ইমরানের বড়বোন ফাতেমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘শিপন দালাল আমার ভাইকে ঠকিয়ে নিয়ে গেছে ও মেরে ফেলেছে। তার কঠোর শাস্তি চাই। আর সরকারের কাছে অনুরোধ, অন্তত একবার ভাইয়ের লাশটি যেন দেখতে পাই।’ একইভাবে মুন্না ও বায়েজিতের পরিবারও দালালচক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।


স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়ায় অবস্থানরত শিপন খান এলাকার বহু যুবককে ইতালি পৌঁছে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আগেও তার মাধ্যমে যাওয়া কয়েকজনের মৃত্যু হলেও এখন পর্যন্ত কোনো শাস্তি হয়নি। ঘটনার পর শিপনের পরিবারের সদস্যরা ঘরবাড়িতে তালা ঝুলিয়ে গা–ঢাকা দিয়েছে।


এ বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘লিবিয়ায় তিন যুবকের মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। নিহতদের পরিবার যদি থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়, তবে দালালচক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মানবপাচারে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024