|
Date: 2025-11-23 16:51:49 |
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে গারো সম্প্রদায়ের সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব ওয়ানগালা বা নবান্ন উৎসব তিন দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। রবিবার (২৩ নভেম্বর) মরিয়মনগর উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়।
২১ নভেম্বর শুক্রবার সকালে উৎসবের উদ্বোধন করেন ঢাকা মহা ধর্মপ্রদেশের কার্ডিনাল বিশপ প্যাট্রিক ডি. রোজারিও। মরিয়মনগর ক্রিশ্চিয়ান মিশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবের মূল লক্ষ্য ছিল শস্যদেবতা মিসি আর সালজংয়ের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং নতুন ফসল উৎসর্গ করা।
ওয়ানগালার অন্যতম আকর্ষণ ছিল থক্কা ও শস্য উৎসর্গ অনুষ্ঠান। গারো পুরোহিত (খামাল) মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে উৎপাদিত শস্য দেবতার উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। সকালে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়, যা পরিচালনা করেন প্রধান অতিথি কার্ডিনাল বিশপ প্যাট্রিক ডি. রোজারিও।
উৎসবে অংশ নেওয়া গারো নারীরা ও পুরুষরা ঐতিহ্যবাহী পোশাক-পরিচ্ছদে রঙিন পরিবেশ সৃষ্টি করেন। কারও মাথায় ছিল কারুকাজ করা ‘খুতুপে’ পাগড়ি, আবার কেউ পরেছিলেন মোরগের পালক দিয়ে তৈরি বিশেষ অলংকার ‘দ.মি’। পরনে ছিল দকমান্দা, দকসারি, কোমরে রিকমাচু (বিছা)সহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পোশাক।
উৎসবকে কেন্দ্র করে বাড়ি বাড়ি নানা পছন্দের খাবার ও পিঠাপুলি তৈরি হয়। বিদ্যালয় মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী দোকানগুলোতেও পাওয়া গেছে গারোদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, পিঠা ও অন্যান্য খাবার। তিন দিন ধরে চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে গারো শিল্পীরা নিজস্ব ভাষায় গান ও নৃত্য পরিবেশন করেন।
ওয়ানগালা উৎসব কমিটির আহ্বায়ক ও মরিয়মনগর ধর্মপল্লীর পালপুরোহিত ফাদার লরেন্স রিবেরু সিএসসি জানান, ১৯৮৫ সাল থেকে মরিয়মনগর সাধু জর্জের ধর্মপল্লীর উদ্যোগে এই ওয়ানগালা উৎসব নিয়মিতভাবে পালন করা হচ্ছে।
ঐতিহ্য, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ও সংস্কৃতির এক অপূর্ব সমন্বয়ে জমে উঠেছিল ঝিনাইগাতীর গারো পল্লীর ওয়ানগালা উৎসব।
© Deshchitro 2024