কক্সবাজারের  কুতুবদিয়া উপজেলার  দক্ষিণ ধূরুং ইউনিয়নের আলী ফকির ডেইল এলাকায় পুনঃনির্মিত দৃষ্টিনন্দন  লাইট হাউজ এ্যান্ড কোস্টাল রেডিও স্টেশন ( বাতিঘর)ও সমুদ্র সৈকত।নতুন সাজে সজ্জিত সম্ভাবনাময় পর্যটন স্পট  বাতিঘর ও সমুদ্র সৈকত,  ভ্রমণ পিপাসুদের পদচারণায় প্রতিদিনই লোকে লোকারন্য হয়ে উঠেছে। 

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর ২০২৫) বিকালে জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ ধুরুং বাতিঘর পয়েন্টে নতুন পর্যটন কেন্দ্রের উদ্বোধন ঘোষণা করেন,উপজেলা নির্বাহী অফিসার ক্যথোয়াইপ্রু মারমা।

উপকুলীয় সমূদ্র বেষ্টিত ৬ ইউনিয়ন বিশিষ্ট কুতুবদিয়ার পশ্চিমে ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ সমূদ্র সৈকত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে দিক দিয়ে কুতুবদিয়ায় কোন অংশেই সেন্টমার্টিনের চেয়ে কম সৌন্দর্য নয়। যেহেতু সেন্টমার্টিন একটি মাত্র ইউনিয়ন। বিখ্যাত পর্যটন হনলুলু, ওয়াইকিকি, সিসিলি এ রকম বিছিন্ন সাগর বেষ্টিত পর্যটন কেন্দ্র আজ পৃথিবীখ্যাত। কিন্তু আশ্চর্য্যরে বিষয় কুতুবদিয়ার মত একটি দারুন সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র থাকার পরে ও এর উন্নয়নে কোন পদক্ষেপ এ পর্যন্ত নেয়া হয়নি। 

 বিচ্ছিন্ন এই দ্বীপে রয়েছে শতবর্ষী ঐতিহ্যের বাতিঘর। আছে ব্যস্ত শুটকি পল্লী আর দেশের একমাত্র উপকূলীয় বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প। এসব নিয়ে গড়ে উঠছে নতুন পর্যটন কেন্দ্র-যা দেশি-বিদেশি ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণের কেন্দ্র হতে পারে বলে আশা স্থানীয়দের।প্রতিদিন শত শত লোকের পদচারণায় মুখর থাকছে এ পর্যটন স্পটটি। ভ্রমণ পিপাসুরা সারি সারি ঝাউগাছের শীতল বাতাস ও সমুদ্রের জোয়ারের ঢেউয়ের তরঙ্গের সামনে সৈকতে ঝাঁকেঝাঁকে লাল কাঁকড়ার দৌঁড়ঝাপ দৃশ্য উপভোগ করার পাশাপাশি  সূর্যাস্তের সময় আপনজনদের সাথে ছবি-সেলফি ও ভিডিও ধারণের মধ্যদিয়ে চমৎকার আনন্দ উপভোগ করতে ভিড় জমায় পর্যটকরা। এছাড়াও সেখানে গড়ে উঠছে অস্থায়ী ঝাল বিতান, চটপটি, কপি হাউজ,চায়ের দোকান সহ বসানো হয়েছে ঘূর্ণিয়মান দোলনা।দিগন্ত বিস্তৃত সাগরের বুকে সূর্যাস্তের দৃশ্য, লাল কাঁকড়ার অবাধ বিচরণ বা ছোট -বড় সবাই দলবেঁধে ফুটবল, ক্রিকেটে মেতে ওঠা ও সমুদ্রের ঢেউয়ের তরঙ্গের দৃশ্য পর্যটকদের দেয় মহা আনন্দ। সেরা ট্যুর প্যাকেজ।

এ দ্বীপের পশ্চিম উপকুল ঘেষে প্রায় ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ বালি আঁড়িযুক্ত প্রকৃতির অপরূপ শোভায় শোভায়িত সৌন্দর্য্য মন্ডিত সমূদ্র সৈকত । জীববৈচিত্র্যপুর্ণ সাগর ঘেরা এ দ্বীপে বিচরণ করলে দেখা যায় নানা প্রজাতির পাখি, মাছ,কচ্ছপ,শামুক,ঝিনুক, মাছ ধরার নৌকার সারি। আর ঐতিহাসিক বিখ্যাত বাতিঘর, প্রাচীন স্থাপত্য কালারমার মসজিদ, লবণ শিল্প, মৎস্য ভান্ডার, সম্ভাবনাময়ী সর্ব বৃহৎ ভুগর্বস্থ গ্যাস ক্ষেত্র  বাংলাদেশের সর্ব প্রথম বায়ুবিদ্যুৎ পাইলট এর প্রকল্প ও দৃষ্টিনন্দন সারিসারি ঝাউবীথি। সরকার উদ্যোগ নিলেই হতে পারে বাংলাদেশ তথা বিশ্বের আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র কুতুবদিয়া দ্বীপটি। দ্বীপের মধ্যে খানে অবস্থিত কুতুব আউলিয়ার সুযোগ্য উত্তরসুরি হযরত শাহ আবদুল মালেক আল কুতুবী (রাঃ) এর মাজার শরীফ। লেমশীখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ প্রান্তে কুতুবদিয়া দ্বীপের পূর্ব পাশে  বাংলাদেশ কুটির শিল্প (বিসিক) এর ঐতিহাসিক বিশাল লবণ উৎপাদন ও প্রদর্শনী খামার রয়েছে। শুস্ক মৌসুমে প্রদর্শনী বিসিক প্রকল্পে সুচারু ভাবে সাদা  লবণ উৎপাদনের দৃশ্য দেখার জন্য প্রতিদিন দেশী-বিদেশী পর্যটক, গবেষক, প্রযুক্তিবিদ ও কবি লেখক সাহিত্যিক লবণ উৎপাদন প্রক্রিয়া স্ব-চোখে মনমুগ্ধ পরিবেশ দেখে যাওয়ার পর তাদেরকে বার বার দেখতে আসার হাত ছানি দেয়। কর্মব্যস্থতার এক ফাঁকে বুকের পাথর চাপা কষ্ট গুলো ভুলে স্বীয় মন মানসিকতাকে সতেজ করতে প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্যের রানী কুতুবদিয়ায় ভ্রমণে আসলে নিঃসন্দেহে মন প্রাণ জুড়িয়ে যায় এমন উক্তি করেছেন অনেক রতি মহরতি জ্ঞানী ব্যক্তিগণ । এ দ্বীপে চলাফেরার যথেষ্ট সুযোগ সুবিধা ও আবাসনের জন্য  বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেলের মধ্যে হোটেল সুমুদ্র বিলাস, হোটেল আলমাস, হোটেল সাগরিকা অন্যতম ।  বাংলাদেশের যে কোন প্রান্ত থেকে গাড়িযোগে সোজা  কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার মগনামা ঘাটে এসে কুতুবদিয়া চ্যানেল পার হয়ে স্পীড বোটে ৭-৮ মিনিট এবং ডেনিশ বোটে ২০-২৫ মিনিটে  কুতুবদিয়া দ্বীপে আসা যায়। সারিসারি ফিশিং ট্রলারের পাল তোলার বহর, গাঙছিল পাখির চেচাচেছি কলকাকলির শব্দ,দেশের সর্ব প্রথম বাযুবিদ্যুৎ পাইলট প্রকল্প, নোনা পানি থেকে প্রাকৃতিক উপায়ে লবণ উৎপাদনের দৃশ্য,আধ্যাতিক সাধক  আবদুল মালেক শাহ মাজার শরীফ, উপকুলে সাগরের ঢেউয়ের শব্দ, দেশী-বিদেশী জাহাজের নাবিকদের পথ দেখানো লাইট ইউজ (বাতিঘর)সহ নানান সৌন্দর্য্য অনেক স্পট রয়েছে এ দ্বীপে।

এদিকে,স্থানীয়  ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আযাদের উদ্দ্যোগে উপকূলীয় সমুদ্র সৈকত সবার কাছে বিনোদন এবং পর্যটন স্পটে রূপ নেওয়াতে এবার  প্রচুর লোক সমাগম। বাতিঘর এলাকাকে ঘিরে গড়ে উঠা সমুদ্র সৈকতে বসানো হয়েছে  কিটকট ছাতাযুক্ত চেয়ার। সেলফি জোনসহ নানা আযোজন।সমুদ্র সৈকত ও সম্ভাবনাময় পর্যটন স্পট গুলোতে আগত পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা ও পর্যটন শিল্প প্রসারের লক্ষ্যে সার্বক্ষণিক  গ্রাম পুলিশ মোতায়েন  করা হয়েছে।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024