যশোরের বাঘারপাড়ায় জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। গত কয়েকদিন ধরে রাত থেকে পরদিন দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে পুরো উপজেলা। কুয়াশার দাপটে জীবনযাত্রা যেমন থমকে গেছে, তেমনি ব্যাহত হচ্ছে যানচলাচল ও কৃষি কাজ। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ ও শ্রমজীবীরা।আজ ভোর থেকে বাঘারপাড়া-যশোর সড়ক এবং বাঘারপাড়া-যশোর সড়কে দেখা গেছে কুয়াশার তীব্রতা। দৃষ্টিসীমা মাত্র ১০-১৫ মিটারের মধ্যে নেমে আসায় দূরপাল্লার বাস ও ট্রাকগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে অত্যন্ত ধীরগতিতে চলাচল করছে। এতে গন্তব্যে পৌঁছাতে সাধারণ যাত্রীদের স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ সময় লাগছে। মহাসড়কগুলোতে ছোটখাটো দুর্ঘটনার খবরও পাওয়া যাচ্ছে।

তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন দিনমজুর ও ভ্যানচালকরা। সকালে বাঘারপাড়া বাজারে কাজের সন্ধানে আসা শ্রমিকদের সংখ্যা ছিল হাতেগোনা। রিকশাচালক কালাম মিয়া জানান, "সকাল ১০টা বাজলেও কুয়াশার জন্য রাস্তা পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে না। ভাড়ায় যাওয়ার মতো মানুষও নেই। পেটের দায়ে বের হয়েছি কিন্তু আয় খুব কম।বর্তমানে বাঘারপাড়ায় বোরো ধান রোপণ ও রবি শস্যের মৌসুম চলছে। কিন্তু টানা কয়েকদিনের ঘন কুয়াশায় ধানের বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় আছেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কুয়াশার কারণে আলুর 'লেট ব্লাইট' ও সরিষার পরাগায়ণ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। কৃষকদের সঠিক সময়ে ছত্রাকনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।হঠাৎ শীতের তীব্রতা বাড়ায় বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। চিকিৎসকরা এই আবহে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হতে এবং গরম কাপড় পরার পরামর্শ দিয়েছেন।উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শীত ও কুয়াশা কবলিত অসহায় মানুষদের জন্য কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একইসাথে কুয়াশার মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালকদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।বাঘারপাড়ার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, দ্রুত এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। তবে প্রকৃতির এই বৈরী আচরণ যতদিন থাকবে, ততদিন জনদুর্ভোগ কমানোর জন্য সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র সহায়তা প্রয়োজন।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024