পৌষের হাড়কাঁপানো শীতে কাঁপছে সারা দেশ। বিশেষ করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে জেঁকে বসেছে মৌসুমের প্রথম মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে। আজ শনিবার সকালে যশোরে তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এর আগের দিন শুক্রবারও যশোরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।টানা শৈত্যপ্রবাহ ও উত্তরের হিমেল হাওয়ায় যশোরসহ আশপাশের এলাকায় শীতের তীব্রতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে চারপাশ, যার ফলে দিনের বেলাতেও যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। তীব্র শীতের কারণে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।

শহরের লালদীঘি পাড়ে কাজ বিক্রি করতে আসা দিনমজুর সুজন মিয়া বলেন, "শীতে একদিন কাজ পাই তো তিনদিন পাই না। কুয়াশা আর ঠান্ডার চোটে মানুষও ঘর থেকে বের হচ্ছে না, আমাদের কাম-কাজও কম।" একই চিত্র রিকশাচালক ও কৃষি শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও। ঠান্ডার কারণে কৃষকেরা সময়মতো মাঠে যেতে পারছেন না, যা রবি শস্যের পরিচর্যায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী,যশোরে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। কুয়াশার কারণে দিনের বেলা সূর্যের দেখা মিললেও রোদের তেজ খুব একটা অনুভূত হচ্ছে না।শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে যশোরে নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ার মতো শীতজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যাই বেশি।যশোর সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে অপ্রয়োজনে ভোরে বা রাতে ঘরের বাইরে বের না হওয়া।পর্যাপ্ত গরম কাপড় ও কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা।বাচ্চাদের ক্ষেত্রে কোল্ড ডায়রিয়া বা নিউমোনিয়া থেকে রক্ষায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা।আবহাওয়াবিদদের মতে, ডিসেম্বরের শেষ এবং জানুয়ারির শুরু পর্যন্ত শীতের এই দাপট অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে ঠান্ডার অনুভূতি কমবে না।


প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024